‘গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করলেন শেখ হাসিনা

'Global Women's Leadership Award', accept, Sheikh Hasina,
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার গ্রহণকালে নারী নেতৃবৃন্দ বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান। এ সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় দেড় হাজার নারী নেতৃত্ব যোগদান করেন।

পুরস্কার গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতা কাজে লাগাতে এবং তাদের সহযোগিতা ও অধিকার তুলে ধরতে একটি নতুন বৈশ্বিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং সম্মানিতবোধ করছি। আমি বিশ্বের নারীদের এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি, যারা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন।

তিনি বলেন, নারীদের সমর্থন ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের একটি নতুন জোট গঠন করা উচিত। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ শেয়ার করতে পারব। এ থেকে লাখ লাখ নারী উপকৃত হতে পারবে। রক্ষণশীল সমাজের নানা বাধা উপেক্ষা করে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে।

বিশ্বের নারীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্য পূরণে তিনি চারটি প্রস্তাব এ সম্মেলনে তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছে-

১/ নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত যে ধারণা সমাজে রয়েছে, তা ভাঙতে হবে।

২/ প্রান্তিক অবস্থানে ঝুঁকির মুখে থাকা সেইসব নারীদের কাছে পৌঁছাতে হবে, যারা আজও কম খাবার পাচ্ছে, যাদের স্কুলে যাওয়া হচ্ছে না, যারা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কোনো নারী, কোনো মেয়ে যেন বাদ না পড়ে।

৩/ নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে তাদের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।

৪/ জীবন ও জীবিকার সমস্ত ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শেখ হাসিনা সবাইকে প্রান্তিক, দুস্থ, যারা অনাহারী এবং স্কুলে যেতে অনাগ্রহী ও নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে গতানুগতিক লিঙ্গ বৈষম্য থেকে ফিরে এসে নারীর সক্ষমতা বাড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোন মেয়ে ও নারী পিছিয়ে পড়ে থাকবে না।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সংগ্রামে বাঙালী নারীদের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের নিজের সংগ্রামের কথাও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।

ad