ঘুর্ণিঝড় মোরা’র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড বান্দরবান

Cyclone, Mora, destroy , Bandarban
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঘুর্ণিঝড় মোরা’র তাণ্ডবে বান্দরবানে একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। দু’সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনে বাতাসে গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে পুরো জেলায়। বিদ্যুৎ না থাকায় বান্দরবানে ব্যবসা বাণিজ্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাসা বাড়িতে ফ্রিজে থাকা জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

বুধবার (৩১ মে) বিকাল সাড়ে ৩টায় ৩৪ ঘন্টা পর বান্দরবান শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়। কিন্তু জেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন মেরামতে কাজ চলছে। তাই সবখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী চিংহ্লা মং।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানায়, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে আলীকদম উপজেলায় অভ্যন্তরীন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্থানীয়রা সড়ক থেকে ভেঙে পড়া গাছপালা সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে। ক্ষতিগ্রস্তরা বিধস্ত ঘরবাড়ি মেরামত এবং গাছপালা সরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আপ্রাণ চেষ্ঠা চালাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র পানি সংকটও দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে ফ্রিজ পরিষ্কার করতে পারছি না।

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসমলাম বেবী বলেন, ঘুর্ণিঝড়ে পৌর শপিং কমপ্লেক্স, বাজার মসজিদ, উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া, বালাঘাটা, বনরুপা পাড়া, যৌথখামারসহ বিভিন্নস্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পৌর শহরটা অনেকটা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, বিজিবি ব্যাটেলিয়ান, ঘুমঘুম ইউপি ভবনসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ঘুর্ণিঝড় মোরা তাণ্ডব চিহ্ন রেখে গেছে। শত শত ঘরবাড়ির চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি। সমুদ্র পাশ্ববর্তী উপজেলায় হওয়ায় এখানে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিছুটা বেশি হয়েছে।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, লামা উপজেলায় বাতাসে গাছপালা ভেঙে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিতে বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ঘুর্ণিঝড় মোরা তান্ডবে বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি সর্ম্পকে বলা যাবে। তালিকা তৈরির পর ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগীতা দেয়া হবে।

ad