চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়েই স্কুল-বসতি!

Mountains, school, locality
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাটালি হিলের পাদদেশে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন জাগো ফাউন্ডেশন স্কুল। যেখানে রয়েছে সম্ভাব্য পাহাড় ধসের ঝুঁকি। পাহাড় ধস হলে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়াও সেখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।

এটা তো সরকারি পাহাড়। কার অনুমতি নিয়ে স্কুল ভবন তৈরি করেছেন অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আছিয়া খাতুনের প্রশ্নে জাগো ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম শাখার শিক্ষা সমন্বয়কারী নাছিমা আক্তার সিরাজী বলেন, স্থানীয় লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা এ এফ কবির আহমেদ মানিকের কাছ থেকে ২৮ লাখ ১১ হাজার টাকায় এ স্কুলের জায়গা ক্রয় করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Mountains, school, locality

তারপর আছিয়া খাতুন বলেন, সরকারি জায়গা তো কোনো ব্যক্তি বিক্রি করতে পারেন না। আপনারা জায়গাটি ক্রয় করেছেন তার কাগজপত্র দেখতে হবে। এ সময় তিনি জায়গা ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন।

সরকারি পাহাড় বিক্রির বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কথা হয় রাধা কোম্পানি নামের এক রিক্সা গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, দশ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় আমি এ জায়গা ক্রয় করেছি। কার কাছ থেকে কিনেছেন জানতে চাইলে বলেন, শামসুল আলমের কাছ থেকে।

অভিযোগ আছে, মতিঝর্ণা ছাড়াও অন্যান্য সরকারি পাহাড়গুলো অবৈধ দখলে নিয়ে কেউ বিক্রি করছেন। অবৈধ দখলে রেখে সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র আবার ভাড়ার নামে প্রতি মাসে আয় করছেন অর্ধ কোটি টাকার ওপর। এসব পাহাড়ের তত্ত্বাবধানকারী সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তবে সরকারি সংস্থার লোকজন দাবি করছেন, অবৈধ দখলদাররা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নগরীতে অবৈধ দখলে থাকা ৭ সরকারি পাহাড় হচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন রাস্তার পাশে বাটালি হিলের পাহাড়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশেনের মালিকানাধীন বাটালি হিল টাইগার পাসের মোড়ে ইন্ট্রাকো সিএনজির পেছনের পাহাড়, লেকসিটি আবাসিক এলাকার পাহাড় ও ভিআইপি হিল, বাটালি হিলের সিটি কর্পোরেশনের টাওয়ার সংলগ্ন পশ্চিম পাশের রাস্তার বিপরীত দিকে বসত এলাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন পাহাড় এবং ওয়াসার মতিঝর্ণা পাহাড়।

সরেজমিনে দেখাগেছে, পাহাড়গুলোতে বেশিরভাগই নিম্ম আয়ের মানুষের বাস। কেউ রিক্সা চালান, কেউ দিনমজুর, কেউ আবার ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। তবে এদের পেছনে রয়েছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী প্রভাবশালীরা। যারা এসব পাহাড় অবৈধ দখলে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বস্তি এলাকা। আদায় করেন মাসিক ভাড়া। অপেক্ষাকৃত কম দামে বাসা ভাড়া পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বাস করেন নিম্ম আয়ের লোকজন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজারের মতিঝর্ণা ও বাটালী হিল এলাকায় পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে অন্যত্র বসবাস করার জন্য মাইকিং করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছিয়া খাতুনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি দল এ মাইকিং করেন।

এ সময় তারা পাহাড়ের পাদদেশে অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বসতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরমধ্যে ছিল জাগো ফাউন্ডেশন স্কুল ভবনটিও। তবে স্কুল ভবন তৈরীর জমি ক্রয় সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখানোর জন্য পাঁচদিন সময় চেয়ে নেন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জাগো ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চের প্রকল্প কর্মকর্তা সৌরভ দাশ বলেন, স্কুলটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক। যে সকল শিশুর বাবা-মা শিক্ষা সম্পর্কে অবগত নন এবং ভরণপোষণের ক্ষমতা নেই, সে সকল শিশুকে এ স্কুলে ভর্তি করানো হয়। প্রত্যেক সপ্তাহে স্কুলের বাচ্চাদের বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী ও শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। যার মধ্যে দুধ, আপেল, কমলাসহ পুষ্টিকর খাবার যেমন রয়েছে, তেমনি স্কুল ব্যাগ, জুতা, টুথপেস্ট, ব্রাশও দেয়া হয়। সবকিছু আমরা বিনামূল্যে সরবরাহ করি।

সরকারি জমি বিক্রির বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে অনেক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিক ফোন রিসিভ করেননি।

ad