চর মোজাম্মেলের ১৫ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত

Bhola Chor mojammal
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা চর মোজাম্মেল এখন লোকে লোকারণ্য। চর জেগে ওঠার পর শুরুতে মানুষের বসবাস না থাকলেও ২০০৩ সাল থেকে এ চরে জনবসতি শুরু হয়। বর্তমানে চর মোজাম্মেলে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। এখানকার মানুষের আয়ের উৎস্য কৃষি ও মৎস্য শিকার। তবে এখানকার বিপুল এ জনগণের জন্য আজও গড়ে উঠেনি কোনো স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র।

শুধু স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নয় এখানে নেই কোনো টিউবওয়েলও। ফলে এখানকার মানুষ নদী বা খালের পানি পান করে জীবনধারণ করে। যে কারণে প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিশু, নারী, পুরুষ ডায়েরিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এমনটা হলে তাদের ভোগান্তি বেড়ে যায় আরও। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতেও সমস্যায় পড়তে হয়।

চর মোজাম্মেলের বাসীন্দা আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, ২০০৪ সাল থেকে আমি আমার পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করি। এখানে কোনো ক্লিনিক, হাসপাতাল নাই। আমরা চিকিৎসা নিতে পারি না। চিকিৎসার জন্য নদী পার হয়ে যেতে হয়ে উপজেলা সদরে।

আসমা আক্তার বলেন, অনেক দূরে কল। কলের পানি না আনতে পারলে নদী-খালের পানি খাই। পোলাপানরা রোগে পড়ে। ডাক্তারও দেখাইতে পারি না।

চর মোজাম্মেল থেকে তজুমদ্দিন উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার। তাও দিনে দু’বার যাতায়াত করে। কখনো কেউ বেশি অসুন্থ্য হয়ে পড়লে ট্রলার রিজার্ভ করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়। তাতে খরচ পরে ৪/৫ হাজার টাকা। দরিদ্র এ মানুষের পক্ষে যা অসম্ভব হয়ে পরে।

স্থানীয় পারুল বেগম বলেন, এ যায়গায় কেউ বেশি অসুস্থ হলে ট্রলার ভাড়া কইরা তজুমদ্দিন নিতে হয়। ট্রলার মালিকরা ৫ হাজার টাকার নিচে যায় না। আমরা গরীব মানুষ এতো টাকা জোগার করতে না পারলে এখানে বিনা চিসিৎসায় মারা যায়।

অজিউল্ল্যাহ বলেন, এখানে কোনো ডাক্তার না থাকায় মহিলাগো বাচ্চা হওয়ার সময় তজুমদ্দিন নিতে হয়। পথে অনেক সময় মহিলারা মারা যায়। আবার আল্লাহ রাখলে বাঁচে। আমরা এখানে দ্রুত একটি ক্লিনিক বা হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানাই সরকারের কাছে।

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, চর মোজাম্মেলে কোনো ক্লিনিক না থাকায় আমি সেখানকার মানুষের কথা চিন্তা করে নিজ উদ্যেগে মাঝে মাঝে ডাক্তার পাঠাই। এখানে একটি ক্লিনিক খুবই দরকার।

এ ব্যাপারে ভোলা সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, সেখানে কোনো ক্লিনিক না থাকায় শীত মৌসুমে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীরা গিয়ে ১৫ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকে। চর মোজাম্মেলে একটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য আমরা একটি প্রস্তাব খুব দ্রুত পাঠাবো।

ad