চাচার দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী!

rape
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এতিম এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে তারই সম্পর্কে এক চাচা। পরে একটি মহল ওই কিশোরীর ইজ্জতের মূল্যে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে মিটমাটের চেষ্টা চালিয়েছে।

অপ্রাপ্ত বয়সী এতিম মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যাটারি চালিত রিক্সাচালক রবিউল ইসলাম রবি (২০) নামের এক লম্পট।

জানা যায়, উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মুকিমপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে রবিউল ইসলাম রবি মৌলভীবাজার শাহ বন্দর এলাকায় মালিকের বাসায় থেকে ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালাতো। পরবর্তীতে রবিউল গ্রামের বাড়িতে আসলে মুকিমপুর গ্রামের এক কিশোরীকে প্রলোভন দিয়ে মৌলভীবাজার নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় দুইমাস বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে এবং একসাথে বসবাস করতে থাকে। পরে মেয়ের নানী খবর পেয়ে কয়েকজন লোক নিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

গত (১৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় মেম্বার ইকবাল হোসেনের নিকট ধর্ষণের অভিযোগ এনে বিচার প্রার্থী হয় কিশোরী ও তার নানী। উভয়পক্ষ ঘটনার বিবরণ প্রদান করলে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে লম্পট রবি। পরে স্থানীয় পঞ্চায়েত যা সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নেবে বলে স্টাম্পের ওপর স্বাক্ষর দিয়ে উভয়পক্ষ অঙ্গীকারনামা করে।

পরে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে চারদিন পর নির্যাতিত কিশোরী ও অভিযুক্ত রবিকে আসার জন্য বলা হয় । কিন্তু গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বর্তমান মেম্বার ও পঞ্চায়েতের কাছে উপস্থিত না হয়ে সাবেক মেম্বার নজরুল মিয়াসহ গুটি ৩-৪ জন মাতব্বরসহ মিলে সালাউদ্দিনের বাড়িতে উভয়পক্ষকে ডেকে এনে মেয়ের ইজ্জতের মূল্য ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

উক্ত গোপন বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, মেয়েটি সবাইকে বলে সে আমাকে বিয়ে করতে হবে না হয় আমি আত্মহত্যা করবো। এরপর আমি চলে আসি। একটি অসহায় অনাথ মেয়ের ইজ্জতের মূল্য কিভাবে সাবেক মেম্বার ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেন – এমন প্রশ্ন জনমনে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানান, আমাকে বিয়ের কথা বলে রবিউল দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে না বলছে। আমি নিরুপায় হয়ে গ্রামের মেম্বারসহ মুরুব্বিয়ান এর কাছে গেলে তারা স্টাম্পে স্বাক্ষর রাখেন।

কিশোরী জানান, তারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা মেনে নেব বলে অঙ্গীকার করলে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাকে ২০ হাজার টাকা দিবেন বলে আশ্বাস দেন এবং এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি যাতে না করি সে জন্য সতর্ক করে দেন ।

নবীগঞ্জ থানার ওসি এস.এম আতাউর রহমান জানান, আমি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি । অভিযোগ ফেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

উল্লেখ্য, লম্পট রবিউল চার বছর পূর্বে বিয়ে করে এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে। এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে পূর্বের স্ত্রী হুসনা বেগম তার সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি মৌলভীবাজার চাদনিঘাট সাবিয়া এলাকা চলে যান এবং রবিউল ইসলাম রবিকে প্রধান আসামী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

ad