ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে শিবিরের অপচেষ্টা

Shibir
ad

জাগরণ ডেস্ক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে সহমত প্রকাশ করেছে দেশের অপামর জনগণ। নিরাপদ সড়ক শুধু শিক্ষার্থীদেরই দাবি নয়, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের প্রাণের দাবি এটি। সরকারও এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। দাবি মেনে নিয়ে করণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তৈরী করা হচ্ছে কঠোর আইন। কিন্তু সবকিছু তো আর একদিনে করা যায় না, আইনি জটিলতার কারণে কিছু সময় প্রয়োজন। কিন্তু এই আন্দোলনকে পুঁজি করে, হামলা ও গুজব ছড়িয়ে সরকার পতনের চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াত।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে নানা গুজব রটানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ফেসবুক পেজে শনিবার বিকালে (৪ আগস্ট) আয়াতুল্লাহ বেহেশতি নামে একজন গুজব ছড়িয়ে একটি পোস্ট দেয়। তার ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ঝিগাতলায় ৪ জন নিহত, ৪ জন ধর্ষিত ছাত্রলীগ নামের শুওরের বাচ্চাদের দ্বারা Mother of humanity u r awesome’।

আয়াতুল্লাহ বেহেশতি রাজশাহীতে শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত এবং কোটা আন্দোলনের সংগঠক। ময়মনসিংহে এক শিক্ষার্থীর ক্যান্সার হয়েছে বলে দাবি করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আট লক্ষ টাকা তুলেছিল সে। মিথ্যাচার প্রকাশের পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তম মধ্যম দিয়েছিল ছাত্ররা। সে ও নুরু, কবীর হোসেন শুভ, সোহরাব, Shibirআতাউল্লাহ, নীলা, ইনজামামসহ বেশ কিছু শিবির কর্মী সবসময় সক্রিয় রয়েছে সরকার বিরোধী অপপ্রচারে। এছাড়া আ ক ম ওয়াহিদুজ্জামান বা পিনাকির মত গুজব রটনাকারীরা এসব করছে বছর যাবত।

এদিকে, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদও একটি গুজব ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। তথ্যের সত্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার তথ্য যদি ভুল হয়ে থাকে, আমি যার কাছ থেকে শুনেছি, তাকে আমার জিজ্ঞাসা করতে হবে।’ পরে গ্রেপ্তারের পর তিনি বলেন, ‘তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে লাইভে আসা ঠিক হয়নি। এটি তার ভুল ছিল।’

এছাড়া এ আর রিমন নামের একজন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘কিছুক্ষণ আগে রাজধানীর জিগাতলায় আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসে নিয়ে ৪ জন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগ!’

আসিফ অর্ক নামের আরেকজন লিখেছে, ‘চারজনকে মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। চারটা মেয়ে নিখোঁজ। মেয়ে চারজনকে রেপ করা হয়েছে।’

তারা এইসব অপপ্রচার চালাচ্ছে কিন্তু নিখোঁজ ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচয় কেউ দিতে পারেনি বা নিখোঁজদের অভিভাবকরা কোথাও কোনো অভিযোগ করেনি!

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুইটি গ্রুপ পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগের পুরো কার্যালয় ঘুরে দেখেছে। এ সময় তারা কোনো লাশ খুঁজে পায়নি এবং কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, বাস্তবে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামাত-শিবির এভাবে নানা গুজব ছড়াচ্ছে ফেসবুকে।

চলমান আন্দোলন নিয়ে এমন আরও অনেক গুজব ছড়িয়েছে। অনেকেই নানাভাবে ছাত্রদের উস্কানি দিয়ে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যার ফলাফল বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ। যদিও এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গত বৃহস্পতিবারই সবাইকে সতর্ক করেছিল। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আন্দোলনের সময়ে রাজধানীতে স্কুল-কলেজের ড্রেস বিক্রি ও আইডি কার্ড বানানোর ধুম পড়েছে। একটি রাজনৈতিক পক্ষ স্কুলের ড্রেস পড়িয়ে তাদের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামাচ্ছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

পরবর্তীতে এর প্রমাণও মিলেছে। শিক্ষার্থীদের মিছিলের বিভিন্ন ফুটেজ পরীক্ষা করে বেশকিছু ছাত্রদল ও শিবির কর্মীদের ছবি পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সশস্ত্র অবস্থাতেও দেখা গেছে। যারা নাশকতার উদ্দেশ্যে ছাত্রদের মাঝে মিশে গিয়েছিল। এমনকি ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিসে যে হামলা হয়েছিল সেখানেও শিবির কর্মীদের দেখা গেছে। তাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সকলকে সাবধান করা হয়েছে গুজবে কান না দিয়ে তথ্যের  সত্যতা যাচাই করতে।

ad