জঙ্গীবাদ রুখতে সম্প্রীতি সম্মেলন

ad

পুলিশ সকল ধর্মের মানুষদের নিয়ে জঙ্গীবাদ মোকাবেলার জন্য একটি সর্ব-ধর্ম সম্মেলন করেছে। এই সম্মেলনে সকল ধর্মের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় সরকারের সাথে কাজ করে। তাদেরকে আরও বলা হয়েছে তারা যেন ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রচার করেন, ধর্ম কখনও জঙ্গীবাদের কথা বলে না। এই সম্মেলন ঢাকায় শুরু হয়েছে কিন্তু পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরগুলোতেও আয়োজন করবেন এমন পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের অভিমত, এই আয়োজন ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায়ও কাজ করবে। ঢাকার সম্প্রীতি সম্মেলনে অনেকের মধ্যে অংশ নিয়েছেন ঢাকাস্থ শাহজাহানপুর এলাকার একটি মসজিদের ইমাম মাজহারুল হক। তিনি বলেন, যেসব তরুণ এইসব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছে তাদের কাছে ইসলামের সঠিক আদর্শ পৌঁছে দিতে পারলেই এই জঙ্গীবাদ মোকাবেলা করা সম্ভব।

এছাড়াও অনেক মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আমরা অনেকেই নামাজের আগে খুতবাতে এবং মাদ্রাসার ক্লাসে জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে কথা বলি। এই প্রসঙ্গে একজন মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, “কোন ধর্মেই মানুষ হত্যা এবং জঙ্গী তৎপরতার কোন জায়গা নেই”। জঙ্গীদের হত্যাকাণ্ডের টার্গেট বিস্তৃত হচ্ছে। লেখক, ব্লগার, শিক্ষকসহ এখন সংখ্যালঘুদেরও হত্যার টার্গেট করা হচ্ছে। সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন শিয়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা সৈয়দ আকতার হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকায় শিয়াদের চার’শ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী তাজিয়া মিছিলেও হামলা হয়েছে যা খুবই দুঃখজনক।তাঁর মতে, শিয়া, সুন্নীসহ সকল ধর্ম এবং বর্ণের মানুষের সম্প্রীতিই ঠেকাতে পারবে জঙ্গীবাদসহ সকল ধরনের সহিংসতা।

ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মিশনের পুরোহিত ধ্রুবিয় সানন্দ মনে করেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে জঙ্গীদের একটা বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে দেশের সব ধর্মের মানুষ এখন সকল ধরনের জঙ্গীবাদ মোকাবেলা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গীবাদের মদদদাতা সহ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে না পারার অভিযোগ থেকেই পুলিশ বাহিনী ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মেলন করেছে বলে মনে করেন তিনি।

পুলিশের আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেনতা সৃষ্টি, সামাজিক আন্দোলন এবং সব ধর্মের ঐক্যবদ্ধ শান্তির বার্তাই পারে জঙ্গীবাদকে রুখতে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্মীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই জঙ্গীদের চিহ্নিত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বড় সহায়ক।

সুত্রঃ বিবিসি

ad