জন কেরির উদ্বেগ ; খুনিদের দেশে পাঠানোর অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

ad

জাগরণ ডেস্ক : জুলহাস-তনয় হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

 আজ রাত ৯টা ৪ মিনিট থেকে ৯টা ২০ পর্যন্ত ১৬ মিনিট যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফানে কথা বলেন। কুশল বিনিময়ের পর জন কেরি সম্প্রতি কলাবাগানে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জুলহাস ছিল আমাদের সহকর্মী”। জন কেরি হত্যাকারিদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলাবাগানের ওই দুর্ভাগ্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য জন কেরিকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। এক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমাদের আইন শৃঙ্খলরক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পরিশ্রম করছে। কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। আমরা আশা করি অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনও ধরনের হত্যাকাণ্ডকে আমরা ঘৃণা করি। কলাবাগানে যে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে তাদের একজন আমার সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মীয়।

তিনি আরও বলেন, আমার পরিবারের সকল সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার। আজ শেখ জামালের জন্মদিন। আমার এই ছোট্ট ভাইকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সাথে নির্মমভাবে হত্যাকরা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর দুইজন হত্যাকারী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় ইতোপূর্বে এফবিআই বাংলাদেশে এসেছে। আমি আশা করি কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়ক সহযোগিতার ক্ষেত্র অব্যাহত থাকবে। কোনও তথ্য পেলে তা শেয়ার করা হবে।

জন কেরি বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেসাই বিসওয়ালকে তিনি বাংলাদেশে পাঠাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে যারা প্রকাশ্যে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তারাই এই হত্যাকারীদের মদদ যোগাচ্ছে। হত্যাকারীরা হত্যার ক্ষেত্রে সফট-টার্গেটে আগাচ্ছে। তারা ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রিদের টার্গেট করছে। এসবগুলোই ঠাণ্ডামাথার হত্যাকাণ্ড।

 প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের আট জনকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানান। এছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য জন কেরির প্রতি অনুরোধে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ad