ট্রেনের টিকেটের জন্য ১৬-১৮ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা

Kamalapur Railway Station, Ticket, Waiting,
ad

জাগরণ ডেস্ক: ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রির চতুর্থ দিনে টিকেট প্রত্যাশী যাত্রীদের উপচেপড়া ভীড় এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে আবার একটি টিকেটের জন্য ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

সোমবার (৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে ২৬টি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ পাওয়া যাচ্ছে ১৩ জুনের আগাম টিকিট। অনেকে ১৪ জুন বৃহস্পতিবার এক দিন ছুটি নিয়েই ঢাকা ছাড়বেন। এজন্য টিকিট কিনতে আজ কমলাপুরে মানুষের উপচে পড়া ভীড়।

সকালে পুরুষদের কাউন্টারে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন কাউন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে বাইরের অংশের দিকে গিয়ে ঠেকেছে। নারীদের কাউন্টারেও ভীড় ছিল বেশ।

টিকিটপ্রত্যাশী নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর থেকে তারা অনেকে লাইন ধরেছেন। অনেকে লাইনে আছেন গতকাল রবিবার বিকাল বা সন্ধ্যা থেকে।

দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও সাধারণ শ্রেণির টিকেট পাওয়া গেলেও প্রত্যাশিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকেট না পেয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।

এখনও টিকিট পেতে কমলাপুর স্টেশনে নতুন করে আসছেন অনেকে। যারা নতুন করে আসছেন তাদের চোখ কপালে, কারণ একটাই ভীড়। তবে তাদের দুশ্চিন্তা দূর করে দিতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে বিক্রি হচ্ছে টিকিটের সিরিয়ালও।

মধ্যরাত থেকে অন্যান্য সাধারণ টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড়ে বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছেন একদল মানুষ। তারা যাত্রীবেশে দাঁড়িয়ে থাকছেন টিকিট প্রত্যাশীদের লাইনে। পরে সকালের দিকে যখন অন্যান্য টিকিট প্রত্যাশীরা টিকিট সংগ্রহ করতে আসছেন, তারা সিরিয়ালের পেছনের দিকে দাঁড়াচ্ছেন।

তখনই তাদের সঙ্গে এসে সামনের দিকের সিরিয়ালা কেনার প্রস্তাব দিচ্ছেন জড়িতরা। বেশ আগ্রহ নিয়েই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে সিরিয়াল। বিশেষ করে যেসব রুটের ট্রেনের টিকেটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেই সব কাউন্টারেই তাদের বেশি টার্গেট।

স্বপ্নের টিকেট পেতে রবিবার মধ্যরাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। ভোর হতে না হতেই লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। সকাল ৬টার দিকে লাইনে মানুষের সংখ্যা নির্ধারিত টিকিটের তুলনায় প্রায় ২-৩ গুণ বেড়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রী হতাশ হয়েই ফিরেছেন।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেছেন, আমাদের সম্পদ সীমিত, এরমধ্যেই আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। সকাল থেকেই কাউন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভীড়। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করছে। যেসব ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেশি সেগুলো খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।

এছাড়া, ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে যেন কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী তৎপর রয়েছে।

ad