ডিমলায় মাকে বেঁধে রেখে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

Rape
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় মাকে বাড়ির উঠানে বেঁধে রেখে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ নয়জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (২০ আগস্ট) রাতে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাবা কলিম উদ্দিন বাদী হয়ে নয় জনের নাম উল্লেখ করে  মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন।

এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা রবিবার সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত ধর্ষণ হওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. রনজিৎ কুমার বর্মণ।

এদিকে আসামীদের আত্মীয়-স্বজনের অভিযোগ ঘটনাটি সাজানো নাটক।

ধর্ষণের শিকার নারীর বাবা জানান, আমার ক্রয়কৃত ৬ একর জমির নিয়ে র্দীঘদিন থেকে এলাকার নির্মল রায়, ফরিদুল ও আলমগীরের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। এর জেরে শনিবার রাত ৩টার দিকে প্রতিপক্ষের ৯ জন আমার মেয়ের শোবার ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে মেয়ের মুখ-হাত-পা বেঁধে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার স্ত্রীর হাত-মুখ বেঁধে বাড়ির উঠানে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে।

এ সময় আমার স্ত্রী ও নাতি-নাতনির চিৎকারে আমরা মেয়েটিকে আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে খুঁজে সন্ধান পাইনি। পর দিন সকালে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নদীর বাঁধ সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

সোমবার মেয়েটি সাংবাদিকদের জানান, বাড়িতে থেকে তাকে ৯ জন তুলে নিয়ে যায়। ফরিদুল (৩২) তাকে ধর্ষণ করে আর বাকীরা ধর্ষণে সহযোগীতা করে।

এরা হলেন, ফরিদুলের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন (২৭), প্রতিবেশি নির্মল রায় (৩২), মঙ্গলু (৫০), দেলওয়ার হোসেন (৪০), তার ছোট ভাই মিস্টার (৩৫), রহিম (৩০)  ও তাদের মামা নুর মোহাম্মদ চেতনা (৫০) ও ফিরিজুল (৩২)।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রবিবার বেলা ১১টার দিকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রথমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। পরে বিকালে তাকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে রাতেই থানায় একটি মামলা করেছেন।  মামলাটি তদন্তসহ আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, মেয়ের বাবা পুলিশকে মৌখিকভাবে তার মেয়েকে দলবেঁধে ধর্ষণের কথা জানালেও মেয়েটি পুলিশকে জানায় তাকে ফরিদুল একাই ধর্ষণ করেছে। বাকীরা সহযোগীতা করেছে তাকে তুলে নিয়ে আসতে।

ad