ধরলা সেতুকে ঈদের উপহার হিসেবে নেবেন: প্রধানমন্ত্রী

dharala bridge open PM
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধরলা সেতুকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য আমার পক্ষ থেকে ঈদের উপহার হিসেবে নেবেন। এটি আপনাদের ঈদের উপহার হিসেবে দিলাম। আপনারা এই সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, দেখেশুনে রাখবেন।

রবিবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ফুলবারী উপজেলায় অবস্থিত ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করার সময় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই সেতুর ফলে এ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। মানুষের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে উঠবে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে যে দেশে উন্নয়ন হয় তার প্রমাণ পাচ্ছেন জনগণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট থেকে শুরু করে আপনাদের রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকার। উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার ধরলা-ব্রহ্মপুত্র থেকে শুরু করে দেশের নদীগুলোর ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্ষাকালে যাতে এসব নদী বেশি পানি ধারণ করতে পারে, যাতে বন্যা না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।

অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন একসময় উত্তরবঙ্গে মঙ্গা হতো, এখন সে সমস্যা কেটে গেছে। যে জমিতে একবার ফসল হতো , সেটি দো-ফসলি হয়েছে। খাদ্য ও সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছিটমহল সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, লালমনিরহাটের প্রত্যেকটা উপজেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। স্বাধীনতার পরপর মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সচেষ্ট ছিলেন। পরে জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিল কিন্তু কেউ ছিটমহল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পর বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছিল, কিন্তু কোনো সরকার ভারতের কাছে ছিটমহল সমস্যা সমাধানের দাবি জানায়নি। কিন্তু আমরা সে সমস্যার সমাধান করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে এতো শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ, যা বিরল।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম এলজিইডির তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই গার্ডার সেতুটি বানানো হয়েছে। এই সেতুটি উত্তর ধরলার তিনটি ইউনিয়নসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

সেতুটির সুবিধা পাবেন দুই জেলার কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়কসেতু। ৯৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার চওড়া সেতুটির ১৯টি স্প্যান ও ৯৫টি গার্ডার রয়েছে।

দুই জেলার মানুষের চলাচলের ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করার জন্য দীর্ঘদিনের দাবির কারণে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এই সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সেতুটি নির্মাণ করছে সিমপেক্স এবং নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপ।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ বলেন, মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ফুলবাড়ী ও লালমনিরহাট অংশে ২ হাজার ৯১৯ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাবদ ১৩ কোটি ৯ টাকা, ৩ হাজার ৪৮০ মিটার নদী শাসনে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৩ একর।

ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকার জনগণ জানিয়েছেন, সেতুটি চালুর ফলে সোনাহাট স্থল বন্দরের সাথে দেশের অন্য জেলা গুলোর যোগাযোগ সহজতর হওয়ায় ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

কৃষি পণ্যের পরিবহন বিপণন, মুমূর্ষ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে। এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে নদীর পাড়ের মানুষ।

ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার ১০ লাখ মানুষ রংপুর বিভাগীয় শহরে সহজে যাতায়াত করতে পারবে। ঢাকার সাথে সড়ক পথে ফুলবাড়ীর উপজেলার দূরত্ব কমবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার।

‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যসহ অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে।

ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থল বন্দরের মাধ্যমে ভারতের আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও অরুণাচল এই সাতটি রাজ্যের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে, বাড়বে আমাদানি-রপ্তানি।

ad