নরসিংদীর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হত্যার ঘটনায় মামলা

Narsingdi CHairman
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ছয়বারের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক হত্যার ঘটনায় ৩০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ।

শুক্রবার (৪ মে) রাতে রায়পুরা থানায় নিহতের ছোট ছেলে আশরাফুল হক বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের জাকির হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে গোটা চরাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, মামলায় এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বেশ কয়েকটি দল অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি নতুন করে সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মেঘনা নদী ঘেরা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন। আধুনিক সভ্যতার এই যুগেও বাঁশগাড়িতে আধিপত্য নিয়ে চিরাচরিত বিবেদ কমেনি। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৮ জন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে বাঁশগাড়ি নিজের বাড়িতে ফিরার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। ঘটনার পর চেয়ারম্যানের উত্তেজিত সমর্থকরা প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান মৃত. সাহেদ সরকার সমর্থকদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে।

পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাহেদ সরকার মারা যাওয়ার পর ওই পক্ষের নেতৃত্বে আসে মালয়েশিয়া ফেরত জাকির হোসেন। সে বিগত ৫ মাস পূর্বে দেশে ফিরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। সাহেদ সরকার মারা যাওয়ার পর দলীয় নেতা হিসেবে সে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এদিকে সিরাজুল হক ১৯৮৮ সাল থেকে ছয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হন। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহেদ সরকারকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের জীবনদশায় অন্য কেউ চেয়ারম্যান হতে পারেনি। আর এই জনপ্রিয়তাই তাঁর কাল হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শাহারিয়ার আলম বলেন, সম্ভাব্য সবগুলো কারণকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। এটা হতে পারে ব্যক্তিগত, দীর্ঘদিনের বিরোধ বা দুই পক্ষের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো গোষ্ঠীর ফায়দা লোটার চেষ্টা। আমরা প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে তাদের সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। সন্দেহের তালিকায় যারা এসেছে আমরা তাদেরকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

ad