পঞ্চগড়ে বন্যায় ৪৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে পঞ্চগড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তা-ঘাট, সেতু কালভার্ট ভেঙে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে রেল যোগাযোগ। আকস্মিক এই বন্যায় জেলার ৪৫ হাজার ৩০৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, আকস্মিক বন্যায় জেলার পাকা সড়ক ৪৫ কিলোমিটার সম্পূর্ণ এবং ১৯৮ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোপা আমন ৩৮২৩ একর এবং শাক-সবজি ৮৪ একর বন্যায় নষ্ট হয়েছে। জেলার ৪ হাজার ৪৯৮টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া, একটি স্লুইচ গেটসহ ৩০০ মিটার গ্রামরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় সময় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুকনো খাবার ও খিচুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তী অবস্থা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসীদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেড় হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জনপ্রতি ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরে বন্যায় ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যাওয়া ১০টি পরিবারকে ১৪ বান্ডিল ঢেউটিন, ১৪ হাজার টাকা, চাল, ডালসহ শুকনো খাবার তুলে দেয়া হয়। এছাড়া, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বানভাসীদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা চলমান রয়েছে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ হাজার ৩০৫টি পরিবারের মাঝে ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও প্রায় ১১ লক্ষ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি যেন ত্রাণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

ad