প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি: গিয়াসকে ৩ সপ্তাহের জামিন

Gius, 3 weeks, bail,
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা এবং বিস্ফোরক আইনে ফটিকছড়ি থানায় পৃথক দুই মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ৩ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তিন সপ্তাহের পর তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য বলা হয়েছে।

রবিবার (৩ জুন) বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল (এম এ) হাফিজ ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী হলেন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই। গিয়াস কাদেরের বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ফটিকছড়িতে ৩০ মে বিস্ফোরক আইনে করা এক মামলায় এবং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা মামলায় গিয়াসউদ্দিন কাদেরকে তিন সপ্তাহের আগাম জামিন দেন আদালত। তিন সপ্তাহ পর তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া, উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করেন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরি ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।

গত ৩১ মে মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। রনির দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। অপর মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ইমরান খান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গিয়াস কাদের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ‘আপনার বাবার মৃত্যুর পর যেমন ইন্নালিল্লাহ্ পড়ার লোক ছিল না, আপনার পরিণতি তার চেয়েও খারাপ হবে। আপনাকে বাবার চেয়েও নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হবে।’

এরপর প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ ফটিকছড়ি থানায় ৩০ মে মামলা করেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জামাল উদ্দিন।

এদিকে, ফটিকছড়ি থানায় বিস্ফোরক আইনে অপর মামলাটি করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন। থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগে বলা হয়, মিলাদ মাহুফিল থেকে ছাত্রলীগের মিছিলের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়।

তার বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলা হয় বলে জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ সকালে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গিয়াস কাদেরের জামিনের আবেদন করেন। ওই জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এই মামলাতেও জামিনের আদেশ দেন।

ad