প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: তিনজনের নামে নতুন মামলা

biman-officer-arrest
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও নাশকতার মামলায় ১১ আসামীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তবে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনজনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল জানান, নতুন মামলায় আসামি হবেন- বিমানের প্রকৌশলী নাজমুল হক, টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান, জুনিয়ার টেকনিশিয়ান শাহ আলম।

মামলায় অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন— প্রকৌশল কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান, সামীউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এস এম সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন এবং মেকানিক শাহ আলম, নাজমুল হক ও আসামি সিদ্দিকুর রহমান।

২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার এম এম আসাদুজ্জামান।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে বিমানটি তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে ত্রুটি সারিয়ে চার ঘণ্টা পর বুদাপেস্টের উদ্দেশে রওনা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান।

ওই বিমানের ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাঙ্কের একটি নাট ঢিলে হওয়ার পেছনে নাশকতা ছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখতে ২৮ নভেম্বর ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিমান মন্ত্রণালয়।

ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। এর আগে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলীও।

ঘটনা তদন্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আরো দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এসব কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৯ জনকে বরখাস্ত করা হয়।

ad