প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের ‘ফায়ারিং স্কোয়াডে’ দেয়া উচিত: রাষ্ট্রপতি

Abdul hamid
ad

জাগরণ ডেস্ক: দেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের ‘ফায়ারিং স্কোয়াডে’ দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

মঙ্গলবার (৬ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নৈতিকতাবর্জিত সাফল্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রথমিক শিক্ষা শক্ত ভিতের ওপর শুরু করানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অর্জিত সাফল্য সমাজ ও দেশের কোনো উপকারে আসে না।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবকদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিটি মা-বাবাই তাদের সন্তানদের সাফল্যের পেছনে ছুটছেন। কিন্তু নৈতিকতাবর্জিত সাফল্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যখন শোনা যায় যে, বাপ বা মা গিয়ে তার ছেলেরে নকল সাপ্লাই দেয়, এটা কি করে হয়? এর চেয়ে লজ্জাজনক, জঘন্য কি হতে পারে? তাহলে এই বাপ আর মা তার ছেলে বা মেয়েকে কি শিখাইতাছে? তারে কি বানাইতেছে? তারে দিয়া ভবিষ্যতে কি হবে? দেশের কি হবে?

রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে শিক্ষকরা শিখাইব ছেলে-মেয়েদেরকে, তারা নিজেরা যদি ছেলে-মেয়েদেরকে প্রাইভেট পড়াইবার জন্য, মার্কেট ভালো করবার জন্য সে যদি প্রশ্ন কইয়া দেয় যে, তাহলে রেজাল্ট ভালো হবে, তার মার্কেট, বেশি বেশি প্রাইভেট ছাত্র পাইবো। এসব চিন্তাভাবনা থেকে তারা এগুলি করতেছে। তাহলে তারা এই দেশ, জাতিকে কি দিচ্ছে? অহন কথা কইলে তো খারাপ কথা। কিন্তু আসলে দেশ ও জাতির স্বার্থে দে শুড গো টগ ফায়ারিং স্কোয়াড।

মো. আবদুল হামিদ বলেন, বর্তমানে প্রচলিত বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতি বদলানো উচিত। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিকায়ন করলে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো সম্ভব হবে। শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করতে গিয়ে তাদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতার বাসনা গড়ে না ওঠে সেদিকে অভিভাবক, শিক্ষকদের নজর দিতে হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার মূল ভিত্তি রচিত হয় একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র্রপতি বলেন, শিক্ষকরা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নীতি ও আদর্শে উজ্জীবিত আদর্শ দেশগড়ার আদর্শ কারিগর হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করতে পারেন।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনারা শিশুদের মাঝে নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারেন। সমাজের কোন কাজটি ভালো এবং কোন কাজটি মন্দ, কোন কাজটি করলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন ঘটবে- সে সম্পর্কে ধারণা প্রদানের পাশাপাশি ভাল কাজের চর্চা করাতে পারেন। তাদের মাঝে দেশাত্ববোধ সৃষ্টি করে দেশপ্রেমী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। শিশুদের জাতির ভবিষ্যৎ। আমি অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে ‘বন্ধুসুলভ’ আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আধুনিক, বিজ্ঞান-ভিত্তিক ও বাস্তবধর্মী শিক্ষা প্রদানের মাধমে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে পরিণত করার মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা, অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভিশন-২০২১ অর্জনের পাশাপাশি দেশের টেকসই ও সুষম উন্নয়ন অর্জনের জন্য শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

ad