প্রেমিকার স্বামীর হাতে খুন হন চবি ছাত্র আলাউদ্দিন!

Rumpa and iqbal
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আলাউদ্দিন আলাওল খুনের ঘটনায় তার সাবেক প্রেমিকা ইয়াছমিন আক্তার রুম্পা ও তার প্রবাসী স্বামী ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে রুস্পা পুলিশকে জানিয়েছেন, আলাউদ্দিন আলাওল তার গৃহশিক্ষক ছিলেন। পড়াতে গিয়ে আলাউদ্দিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। কিন্তু রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাটের ব্যবসায়ী ওমর সাদেকের সাথে রুম্পার বিয়ে হয়ে যায়। ফলে সে সম্পর্ক তিক্ততায় পরিণত হয়।

রুম্পার কথায়, আলাউদ্দিন আলাওল ব্ল্যাকমেইলিং করে তার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখতে বাধ্য করত। যা নিয়ে সন্দেহ করত স্বামী ওমর সাদেক। ফলে শিক্ষক ও ভালবাসার মানুষ আলাউদ্দিন এক সময় চরম নিপীড়ক হয়ে উঠে রুম্পার কাছে।

রুম্পা হাটহাজারী থানার ১১ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. হারুনের মেয়ে।  ২০০৭ সালে রূম্পা পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। সে সময় আলাউদ্দিন রুম্পাকে পড়াতে শুরু করেন, আলাউদ্দিন তখন এইচএসসির ছাত্র।

রুম্পা পুলিশকে জানায়, আলাউদ্দিনের বাড়ি একই এলাকায় হলেও আগে থেকে চিনতেন না তিনি। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়। এর সূত্র ধরে আলাউদ্দিন তার মোবাইলে রুম্পার কিছু ছবি নেয় এবং ভিডিও করে সংরক্ষণ করে। বিয়ের পর রুম্পাকে সেই ছবি এবং ভিডিও দিয়েই ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করে আলাউদ্দিন।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, বিয়ের পর স্বামী ওমর সাদেক তার বাড়িতে রুম্পাকে মোবাইল ব্যবহার করতে দিত না। সম্ভবত শুরু থেকেই একটা সন্দেহ ছিল। বাবার বাড়িতে এলে রুম্পা মোবাইল ব্যবহার করার সুযোগ পেত।  তখন আবার আলাউদ্দিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ স্থাপন হয় এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান।

এক পর্যায়ে বিষয়টি ওমর সাদেক জানতে পারেন। এ নিয়ে দাম্পত্য ঝগড়া এবং বিভিন্ন ঘটনা পরিক্রমায় ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রথম সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যায় রুম্পা। এরপর ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই প্রবাসী ইকবাল হোসেনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয় রুম্পার। ওই দিনই ওমর সাদেকের সঙ্গে তার তালাক হয়।

পুলিশকে দেয়া রুম্পার ভাষ্য, প্রথম সংসার ছেড়ে চলে আসার পর থেকে দ্বিতীয় বিয়ে পর্যন্ত আলাউদ্দিন তাকে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে বাধ্য করেন। এসময় আলাউদ্দিন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ এবং বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার ভয় দেখাত রুম্পাকে।

রুম্পা বলেন, বিয়ের দু‘মাস ছয়দিন পর ওমানে চলে যান ইকবাল। যাবার আগে ইকবাল রুম্পা ও আলাউদ্দিনের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যান এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালের শেষের দিকে আলাউদ্দিনের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ নিয়মিত হয় রুম্পার। এসময় ইকবালও দেশে ফিরে আসে। এক পর্যায়ে ইকবাল আলাউদ্দিনকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। আলাউদ্দিনের নিপীড়নে বিরক্ত রুম্পা সায় দেয়।

এদিকে আলাউদ্দিন রুম্পাকে দেখা করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। রুম্পা ইকবালের পরামর্শমতো আলাউদ্দিনকে জানায়, নতুন বাসায় উঠলে সেখানে দেখা করবেন। ইকবাল বায়েজিদ বোস্তামি থানার শহীদনগর এলাকায় ওমান প্রবাসী আবু ছৈয়দের মালিকানাধীন বাড়িতে একটি বাসা ভাড়া নেয়। ২২ মার্চ বিকালে আলাউদ্দিনকে ওই বাসায় আসার কথা বলেন রুম্পা। বিকেল ৫টার দিকে ইকবাল ও রুম্পা এবং তার তিন সৎ ভাই হেলাল, মাসুদ ও তৈয়ব ওই বাসায় যায়। বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আলাউদ্দিন ওই বাসায় আসে। ঘরের ভেতরে ঢুকতেই আলাউদ্দিনকে ধরাশায়ী করে ফেলেন তারা। এসময় রুম্পাকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন ইকবাল।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ইকবাল, তৈয়ব, হেলাল ও মাসুদ মিলে বাথরুমে নিয়ে খুন করে আলাউদ্দিনকে। পরের দিন রুম্পা ইকবালের কাছে জানতে পারেন, আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর রুম্পা পুলিশকে জানিয়েছেন, স্কুলজীবনে আলাউদ্দিনকে ভালবাসতেন তিনি। কিন্তু ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হতে হতে আলাউদ্দিনের প্রতি তার ঘৃণা জন্মে।

আলাউদ্দিন খুন হওয়ার পর রুম্পার মধ্যে কোন অনুশোচনা আছে কি না জানতে চাইলে রুম্পা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, কি বলব আর। কিছুই বলার নেই।

উল্লেখ্য, আলাউদ্দিন আলাওল (২৪) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। ২২ মার্চ রাতে বায়েজিদের শহীদনগর এলাকায় একটি বাসার বাথরুম থেকে আলাউদ্দিনের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আলাউদ্দিন হত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য চবি ক্যাম্পাসে মানববন্ধন-মিছিল হয়েছে।

ad