ফরিদপুরে আ.লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ নিহত ১, আহত ৩০

saltha clash
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সরোয়ার মাতুব্বার (৩২) নামে এক যুবক নিহত  হয়েছে।

রবিবার (২৮ মে) সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের লক্ষনদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ, ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত সরোয়ার গট্টি ইউনিয়নের বনগ্রামের মৃত খাদেম মাতুব্বারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান লাভলুর সাথে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লক্ষনদিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মাতুব্বারের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সকালে চেয়ারম্যান সমর্থকরা কামাল মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় ৫/৬ টি বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করা হয়।

পরে কামাল মাতুব্বরের সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চেয়ারম্যানের সমর্থক সরোয়ার মাতুব্বর ঘটনাস্থলে মারা যায়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশ ১৫৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৬২টি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক বসতঘর ভাঙচুর, ৪/৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান লাবলু জানান, কামাল তার লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে আমার ৪টি ঘরে অগ্নি সংযোগ করে।

কামাল মাতুব্বর জানান, আমার শশুর আওয়ামী লীগ নেতা তেহারুদ্দিনকে ১ বছর আগে হত্যা করে লাবলু চেয়ারম্যান। এই হত্যা মামলা দায়েরের পর থেকে লাবলু চেয়ারম্যান আমাদের লোকজনকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করে। এর প্রতিবাদ করায় রবিবার সকালে সে তার বাহিনী নিয়ে আমার সমর্থকের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার এফ এম মহিউদ্দীন বলেন, চার হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।  লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ad