বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে আ.লীগ নেতার নামে স্কুল ভবন!

Mymonsingh
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে পূর্ব নির্ধারিত ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম পরিবর্তন করে এক আওয়ামী লীগ নেতার নামে নতুন ভবন করার অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় তোলপাড় শুরু হলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভালুকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা জানান, ওই স্কুলের নবনির্মিত ভবনটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে করার পূর্ব সিদ্ধান্ত থাকলেও সম্প্রতি রহস্যজনক কারণে প্রবাসী ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ ওয়াহেদের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী বিল্লাল হোসেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ওই অভিযোগটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুজ্জামান লস্কর। ফলে নবনির্মিত স্কুল ভবনটির নামকরণ জাতির জনকের নামে ‘বঙ্গবন্ধ ভবন’ করার কথা থাকলেও তিনতলা বিশিষ্ট ওই ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে ওয়াহেদ ভবন নামে, যা ধৃষ্টতার শামিল।

তবে একটি সূত্রের দাবি, নবনির্মিত ভবনটি স্থানীয় আঙ্গারগাড়া মৌজার ৩০০নং দাগের সরকারি জমিতে করা হয়েছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে।

জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুজ্জামান লস্কর নীতিমালা লঙ্ঘন করে ২০০৬ সালে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন।

তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ডাকাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিক জার্সি বদল করে ভিড়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে।

তবে আতিকুজ্জামান লস্কর দাবি করেন, ওয়াহেদের অনুদানের টাকায় এ ভবনটি নির্মিত হয়েছে। ২০১৬ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা এ ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০১৭ সালের ১৭ আগষ্ট স্থানীয় এমপি ডা. আমান উল্লাহ এ ভবনের উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ওয়াহেদ এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে মিথ্যাচার করছে এবং যে নামে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা ভুয়া।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চাঁন মিয়া জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

ad