বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ হচ্ছে শহীদ পরিবার!

Hohiuddin
ad

জাগরণ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দ দেয়া বাড়ি থেকে একটি শহীদ পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কোনো আগাম নোটিশ না দিয়েই আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সরকারি কর্মচারী মহিউদ্দিন হায়দারের স্ত্রী খুরশিদা হায়দার ও তার ছেলেকে উচ্ছেদ করতে যাচ্ছে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতর। পরিবারটি বাড়ি ছাড়ার জন্য সময়ের আবেদন করলেও তা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

শহীদ মহিউদ্দিন হায়দারের স্ত্রী খুরশিদা হায়দার বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ বেতারে চাকরি পান Khurshidaতিনি। পরের বছর ১৯৭৩ সালে শহীদ পরিবার হিসেবে আজিমপুর কলোনিতে বাসাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরাদ্দ দেন। সেই থেকে তিনি পরিবার নিয়ে বাসাটিতে থাকছেন।

তিনি বলেন, সোমবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, হুমকি ও চাপের মুখে, অপমান নিয়ে ৪৫ বছরের ঠিকানা থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে তাকে। অথচ  ১৯৭২ সালের যে সিদ্ধান্ত বলে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তাতে পরিষ্কার বলা আছে— সরকার কোনো বিকল্প আবাসের ব্যবস্থা না করে শহীদ পরিবারকে বাসা থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না।  এমনকি বাড়ি ছাড়তে কিছুটা সময় চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে দুর্দশার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন শহীদ মহিউদ্দিনের ছেলে সাহেদ সদরুদ্দিন। তিনি লিখেছেন, আমার আম্মা মুক্তিযুদ্ধে একজন শহীদের স্ত্রী। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু উল্লেখিত মর্যাদায় আম্মাকে তার ২ সন্তানসহ বসবাস কল্পে ঢাকার আজিমপুরে একটি সরকারি বাসা আমরণ থাকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ১৯৭২ এ মন্ত্রিসভায় গৃহীত যে সিদ্ধান্ত বলে ওই বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তাতে পরিষ্কার বলা আছে- সরকার কোনো বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে এই পরিবারকে এই বাসা থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না।’

‘কিন্তু বাস্তবতা এই যে, আগামী পড়শু সোমবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকি ও চাপের মুখে একরাশ অপমান নিয়ে বিগত ৪৫ বছরের ঠিকানা থেকে আম্মাকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। আমার আম্মার শেষ অনুরোধ হিসেবে গণপূর্তের যুগ্ম সচিব মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘এত অল্প সময়ের নোটিশে আমি কীভাবে বাসা খুঁজে পাবো? আমাকে সময়টা এক্সটানশন করে দিন। উত্তরে ওই অফিসার বলেছেন, ‘কিছু খুঁজে না পেলে গাছ তলায় গিয়ে থাকেন ’

মহিউদ্দিন হায়দার বাংলাদেশ বেতারের রংপুর শাখায় চাকরি করতেন। তিনি কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে শহীদ হন।

ad