বজ্রপাত মোকাবেলায় ৩১ লাখ ৬৪ হাজার তালের বীজ রোপণ

Thunderbolt, 31 lakh 64 thousand, palm seeds, planting,
ad

জাগরণ ডেস্ক: সারাদেশে বজ্রপাত মোকাবেলায় ৩১ লাখ ৬৪ হাজার তালের বীজ রোপণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, একইসঙ্গে মোবাইল টাওয়ারে আর্থিং ব্যবস্থা যুক্ত করে বজ্র নিরোধক দণ্ড হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১ মে) সচিবালয়ে চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুইদিনে ২৯ জন লোক বজ্রপাতে মারা গেছেন। গত মার্চ মাসে ১২ জন এবং এপ্রিল মাসে ৫৮ জনসহ মোট ৭০ জন লোক বজ্রপাতে মারা গেছেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বজ্রপাত বিশ্ব রেকর্ড ও ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এ কারণে দেশের আটটি জেলায় বজ্রপাত রেকর্ডকরন মেশিন বসানো হয়েছে। জেলা ও স্থান হলো, ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া, সাতক্ষীরার কয়রা, পটিুয়াখালি, নওগাঁর বদলগাছি।

অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত বছর পাহাড় ধসে পার্বত্য এলাকায় ১৬৬ জন লোকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে

মায়া বলেন, এ বছর পাহাড় ধস মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এপ্রিল মাসের ২২-২৬ তারিখে মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্বত্য তিন জেলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার— এই পাঁচ জেলার ৩৫টি উপজেলায় শোভাযাত্রা, কর্মশালা ও জেলা-উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা হয়েছে।

তিনি জানান, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের দ্রুত সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। গত দুদিনে শুধু রাঙামাটিতেই ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাই এখনই জেলা প্রশাসনকে সতর্ক হতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বর্ষা মৌসুম সামনে, এ সময়ে ঝড়-তুফান হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সকলকে পরিস্থিতি দেখে শুনে ঘর থেকে বের হতে হবে।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কুতুপালংয়ের পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শিবির থেকে দুই লাখ রোহিঙ্গা অধিবাসীকে অন্যত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এরা ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করছিল।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির ফলে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ হাওর অঞ্চলে বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই এসব জেলার কৃষকদের ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। এরই মধ্যে ৮৮ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, এবার দেশের ৩৭টি জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। অতিবৃষ্টি ও ভারি বৃষ্টির ফলে এ সমস্ত জেলার জেলা প্রশাসকদের সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

ad