বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু আসা প্রায় বন্ধ

jagoran- Border, India, cows come, almost off,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গরু আনতে বিজিবি এখন আর কাউকে সীমান্তে টপকে ভারতে যেতে দিচ্ছে না। যাও কিছু গরু আসছে, তাও আবার ভারতীয়রাই সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসে দিয়ে যাচ্ছে।

বেনাপোলের আশপাশের বিভিন্ন সীমান্তের বেশিরভাগ স্থান জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া। তবে যেসব স্থানে বেড়া নেই, সেই পথে চুরি করে কিছু গরু আসছে। যে পথে কাঁটাতারের বেড়া আছে, সেখানে নেয়া হয় ভিন্ন কৌশল। গরু-ছাগল মাঠে চরানোর নাম করে গেট দিয়েই পার করে দেয়া হচ্ছে।

অবৈধ পথে গরু আনার জন্য বেনাপোলের পুটখালী, অগ্রভুলোট, দৌলতপুর ও গোগা এই চারটি গরু খাটালে বর্তমানে সামান্য কিছু গরু আসছে। নাভারন গরু করিডোর অফিস থেকে ভ্যাট বাবদ ৫০০ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে, দেশী জাতের গরু পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের শার্শা ও বেনাপোলের খামারিরা। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের অধিকাংশ খামারে দেশী ও সম্পূর্ণ নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় গরু আমদানি করা না হলেও কোরবানির ঈদে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

স্থানীয়রা জানান, গত চার বছর ধরে কোরবানি উপলক্ষে সীমান্ত এলাকা শার্শা ও বেনাপোল দিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভারতীয় গরু না আসার সুযোগে শার্শা ও বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠে বেশকিছু গরুর খামার। এসব খামারে পালন করা হচ্ছে নানা জাতের দেশী গরু।

এসব গরু বিগত কয়েক বছর এ অঞ্চলের কোরবানির গরুর চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও খামারিরা কোরবানির গরু পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা দেশী জাতের গরু মোটাতাজাকরণ কাজে তৎপর হয়ে উঠেছেন।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ জয়দেব কুমার সিংহ জানান, শার্শা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ছোট বড় মিলিয়ে এক হাজারের ও বেশী খামার রয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু ও ছাগলের চাহিদা পূরণ করেও অতিরিক্ত থাকবে। যে কারণে এ বছর কোরবানির ঈদে পশুর কোনো সংকট হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

নাভারন কাস্টমস করিডোরের ইনচার্জ কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, গত ৪-৫ বছর আগে পুটখালীসহ এসব খাটাল হয়ে প্রতিদিন ৫-৭ হাজার গরু আসতো। বর্তমানে তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ২০-২৫টিতে।

তিনি জানান, ভারত থেকে আসা গরুর মধ্যে রয়েছে সিন্ধি, ফ্রিজিয়ান, জার্সি, হরিয়ানা, নেপালি, সম্বলপুরিসহ বিভিন্ন জাতের গরু। অবৈধভাবে আসা এসব গরু বিজিবির খাটালে রেখে শুল্ক করিডোরের মাধ্যমে গরু প্রতি ৫০০ টাকা করে রাজস্ব নিয়ে বৈধতা দেয়া হয়।

কাস্টমস করিডোর সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে এসব সীমান্ত দিয়ে গত ৭ মাসে ভারত থেকে ৩৫ হাজার ৬৭৮টি গরু আসে বাংলাদেশে। সরকার এ সময় ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ৩৯ হাজার টাকার রাজস্ব আয় করে। একই সময়ে চলতি ২০১৮ সালে জুলাই মাস পর্যন্ত ৭ হাজার ৫২৬টি গরু পাচার হয়ে আসে বাংলাদেশে। এ থেকে সরকার ৩৭ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে।

২১ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমান্ডিং অফিসার মেজর সৈয়দ সোহেল আহমেদ জানান, ভারত থেকে গরু আসা কমে গেছে। ভারত থেকে গরু আনতে কোনো বাংলাদেশী রাখালকে ভারতে যেতে দেয়া হচ্ছে না। ভারতীয়রাই শূন্য লাইনে এসে গরু দিয়ে যাচ্ছে। ফলে গত এক মাসে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে।

ad