মধ্যপাড়ায় পাথর গায়েব: তদন্ত কমিটি গঠন

Jagoran- , stone, disappearance
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কয়লা কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) প্রায় ৫৬ কোটি টাকা মুল্যের ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৭ টন পাথরের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

বিষয়টি তদন্তের জন্য পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) জাবেদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- পেট্রোবাংলার ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন, আনোয়ার হোসেন খান ও মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক রাজেউন্নবী।

এমজিএমসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরিমাপগত ক্রটি, সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত লোকসান ও মাটির নিচে দেবে গেছে বলে দাবি করেছে। কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে গত ২৯ জুলাই এমজিএমসিএল বোর্ড মিটিং এ বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

জানাগেছে, মধ্যপাড়া খনি উন্নয়নকালীন পিরিয়ডসহ ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের যাওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করা হয়েছে ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন।

গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এমজিএমসিএল বোর্ড মিটিং এ উত্থাপিত রিপোর্টে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত পরিমাপগত ক্রটি ও সিস্টেম লস দেখানো হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৬ মেট্রিক টন পাথর খনি ইয়ার্ডে মাটির নিচে দেবে গেছে বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

খনি কর্তৃপক্ষ মোট ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৬.৮৯ টন পাথরের মুল্য বাবদ ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৮ টাকা অবলোপন করার জন্য এমজিএমসিএল বোর্ডকে অনুরোধ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমজিএমসিএল’র দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা জানান- মধ্যপাড়া খনির পাথরের পরিমাপগত ক্রটি, সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত লোকসান ও মাটির নিচে দেবে যাওয়ার বিষয়ে এমজিএমসিএল বোর্ড এবং পেট্রোবাংলাকে সময়ে সময়ে জানানো হয়েছে। এরপরও এতদিনেও বিষয়টি সমন্বয় বা অবলোপন না করা দুঃখজনক।

খনির অপর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০০৬-২০০৭ থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত খনি বাস্তবায়নকারী উত্তর কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান নামনাম কর্তৃক উৎপাদনকালীন সময়ে পরিমাপগত ক্রটি ও সিস্টেম লস দেখানো হয় ২ লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন।

২০১২-২০১৩ অর্থ বছরের পর আর পরিমাপগত ক্রটি ও সিস্টেম লস নেই। এরপর থেকে মাটির নিচে দেবে গেছে বা মাটিই খেয়ে ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে তিনি মনে করেন।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) জাবেদ চৌধুরী বলেন, গত ২৯ জুলাই এমজিএমসিএল বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হয় বলে জেনেছি। তবে বিস্তারিত কিছু জানি না এবং কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারবো না।

ad