মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদ

supreme court
ad

জাগরণ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণ করা হয়েছে। ভাস্কর্য সরানোর সময় রাতভর আদালতের ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরুর খবর প্রকাশের ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের তালাবদ্ধ মূল ফটকের বাইরে সমবেত হন অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতা।

ভাস্কর্য সরানোর খবর পাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে ছুটে আসেন বিক্ষুব্ধরা।

supreme court 2দুইটার দিকে বেশ কিছু তরুণ সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের একটি মিছিল আসে।

রাত আড়াইটার দিকে বিক্ষুব্ধরা আদালতের ফটক ধরে ধাক্কাধাক্কি করেন। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য ভাস্কর্য সরানোর কাজ বন্ধ থাকে। ভেতর থেকে ফটকের কাছে আসেন কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

তবে সাময়িক উত্তেজনার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ফটকের সামনে ও অন্য একটি অংশ রাস্তার একপাশ বন্ধ করে রাস্তার ওপর অবস্থান নেন। থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। স্লোগান ওঠে ‘ন্যায়বিচারের ভাস্কর্য অপসারণ করা যাবে না’, ‘আপস না রাজপথ?—রাজপথ, রাজপথ’, ‘হেফাজতের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘মৌলবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও জ্বালিয়ে দাও’ ইত্যাদি।

তবে, বাইরে বিক্ষোভের মধ্যে আশপাশের বাতি নিভিয়ে চলে ভাস্কর্য অপসারণের কাজ। এর শিল্পী মৃণাল হকও সেখানে ছিলেন।

supreme cout 3ভোররাত ৪টার দিকে ভাস্কর্যটি ক্রেইনের সাহায্যে একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। তার ঠিক আগে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে কাগজে আগুন জ্বালিয়ে মূল ফটকের ভেতরে ছুড়ে দেওয়া হয়।

ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে বিক্ষোভরতদের একজন তানভীর রুসমত বলেন, এই ভাস্কর্য ন্যায়বিচারের প্রতীক। মৌলবাদীদের দাবির মুখে এটা সরানোর সুযোগ নেই। আমরা এটা মানি না।

উল্লেখ্য, রোমান যুগের ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিস’র আদলে এই ভাস্কর্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন ভাস্কর্যটি সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন এক দল ওলামার সঙ্গে গণভবনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটি সরাতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ad