মুজিব কোট নিয়ে কটূক্তি: যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

Mujib coat, young man, against, case
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুজিব কোট নিয়ে কটূক্তিকারী সোহাগ বিশ্বাস নামের সেই যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশ হেড কোয়ার্টার তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) রাতে অনুমতি সাপেক্ষে সোহাগ বিশ্বাস ও ফরহাদ ফকিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলার অনুমতির জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অনুমতি পেয়ে মামলাটি গ্রহণ করেছি।

জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হোটেল ব্যবসায়ী মো. খলিলুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে সোহাগ বিশ্বাস ঢাকায় লেখাপড়া করা অবস্থায় ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে।

ওই সময় থেকে সোহাগ বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে আসছে।

সম্প্রতি সোহাগ বিশ্বাস তার ফেসবুক আইডিতে নিজে মুজিব কোট ও চশমা পরিহিত মোটরসাইকেল সামনে রেখে একটি ছবি আপলোড করেছে। ওই ছবির ওপরে ফরহাদ ফকির নামের এক লোক বন্তব্য করেছেন, গায়ে মুজিব কোট চোখে জিয়া চশমা ভালোই লাগে।

ফরহাদ ফকিরের মন্তব্যের জবাবে সোহাগ বিশ্বাস লিখেছিল বাল কোট বা চশমা কি কারো…….। ফরহাদের মন্তব্যের জবাবে সোহাগ বিশ্বাস আরও লিখেছিল, বাল কোট বা চশমা কি কারো নিজস্ব সম্পতি? আমার বাপের টাকা দিয়ে কিনছি। তাই এর নিজস্ব কোনো নাম আমার কাছে নেই। এখন এটা সোহাগের কোট, সোহাগের চশমা।

সোহাগ বিশ্বাসের মুজিব কোটকে নিয়ে কটূক্তির ঘটনা মঙ্গলবার ৯১০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সাধারণ মানুষ এই সোহাগ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেছেন।

মুজিব কোর্ট নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় বুধবার (১১ জুলাই) রাতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরে টনক নড়ে পুলিশ প্রশাসনের। ওইদিন রাত ৯টার দিকে পুলিশ শিবির নেতা সোহাগ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ মামলাটি গ্রহনের জন্য পুলিশ হেড কোয়ার্টারে অনুমতির জন্য পাঠায়। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) রাতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার মামলাটি গ্রহণের জন্য অনুমতি দেয়। ওইদিন রাতেই তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সোহাগ বিশ্বাসকে ৫৪ ধারায় মামলা করে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের মাধ্যমে মুজিব কোট নিয়ে কটূক্তিকারী সোহাগ বিশ্বাসকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ad