মোংলায় কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া জাহাজটি এখনো উদ্ধার হয়নি

Sundarban jahaj
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: গত ১৪ এপ্রিল ভোরে সুন্দরবনের নিকটবর্তী মোংলা বন্দরের হারবারিয়া এলাকায় ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া এমভি বিলাস নামে কার্গো জাহাজটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি থেকে কিছু কয়লা উত্তোলন করা হলেও এর বিষাক্ত পদার্থ পানির সাথে মিশে গেছে। যে কারণে সুন্দরবনের জলজ-প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

জানা যায়, জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পরই হারবার বিভাগ ও কোষ্টগার্ড খবর পেয়ে জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ শিপসা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপর মালিকপক্ষকে কার্গোটি উত্তোলনের জন্য ১৫ দিনের সময় বেধে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে শনিবার পর্যন্ত ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জাহাজটি উদ্ধারে মালিকপক্ষ থেকে আরও সময় চাওয়া হবে বলে জানায় উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান হোসেন স্যালভেস।

ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ এমভি বিলাসের মালিক ব্যবসায়ী সোহেল জানান, তিনি শারিরীকভাবে অসুস্থ। তাই জাহাজটির উদ্ধারকাজ দেখভাল ও তদারকি করার জন্য বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বাহারুল ইসলাম বাহারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাহারুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন কয়লার কার্গো জাহাজডুবির ১৫ দিন পার হয়েছে শনিবার। এখনো কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছে। এরপর জাহাজ উদ্ধারের কাজ শুরু হবে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। আজ আরও ২০ দিনের সময় চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করা হবে। ২০ দিন সময় দিলে এর মধ্যে কয়লাসহ ডুবন্ত কার্গো জাহাজটি উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

বাহারুল ইসলাম আরও বলেন, ডুবে যাওয়া কার্গোটিতে তিন দিক থেকে ফাটল পেয়েছে ডুবুরিরা। এখন জাহাজটি থেকে মাটি-পানি মিশ্রিত কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, যা পরে ৪শ টন ধারণমতা সম্পন্ন একটি বাল্কগেডে রাখা হচ্ছে। বাল্কগেডে উঠানো মাটি ও পানি মিশ্রিত থাকায় কী পরিমাণ কয়লা উত্তোলন হয়েছে, তা পরিমাপ করা এখনই সম্ভব হচ্ছে না। তবে জাহাজে খোলা অবস্থায় থাকায় অনেক কয়লা নদীর স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে দুই-তৃতীয়াংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে মোংলা হারবার মাস্টার কমান্ডার এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ডুবন্ত জাহাজটি উদ্ধারের জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি জাহাজটি উদ্ধার করতে না পারে, আর আমাদের কাছে সময়ের আবেদন করে তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনা করবে। আর তারপরও যদি উত্তোলন করতে না পারে তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, কয়লা উত্তোলন শুরু হলেও এর তিকারক পদার্থ পানি ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ডুবন্ত কার্গোটিতে নিম্নমানের পিট কয়লা রয়েছে। এসব কয়লা যশোরসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন ইটভাটা ও বিভিন্ন লোহার কারখানায় ব্যবহারের জন্য আনা হচ্ছিল। এ কয়লায় রয়েছে সালফার, সিসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, পারদ, নিকেল, সেলেনিয়াম, বেরিলিয়াম, রেডিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও আর্সেনিকের মতো তিকর সব পদার্থ। দীর্ঘ সময় কয়লাগুলো পানিতে ভিজে থাকার কারণে এসব তিকারক পদার্থ পানির সঙ্গে মিশে গেছে।

তিনি বলেন, এখন যেভাবে পাইপ দিয়ে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে কয়লা উঠবে ঠিকই, কিন্তু এর তিকারক রাসায়নিক পদার্থ পানি ও মাটিতে মিশে মাটির গুণাগুণ নষ্ট করবে। এতে অঙ্কুরোদ্গম তিগ্রস্ত হবে। ফলে কয়লার বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে ডলফিন ও কুমিরের জীবনচক্র ব্যাহত হতে পারে। অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজননও হুমকিতে পড়বে। একই সঙ্গে মাছসহ অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কয়লার জাহাজটি উদ্ধারে দেরি হওয়ায় সুন্দরবনের জলজ-প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। কারণ এ কয়লায় সালফারের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে থাকে।

ad