ময়মনসিংহে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাণ্ডব, সাংবাদিকদের মারধর

Mymenisngh Journalist
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে ব্যাপক তাণ্ড চালিয়েছে। গত দুইদিনে তারা অর্ধশতাধিক বাস, ট্রাক, অটোরিক্সা ভাঙচুর করেছে। এ সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ায় সাংবাদিকদেরও পিটিয়ে আহত ও ক্যামেরা-মোবাইল ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৪ মে) সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেলতলি নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের হামলায় এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ এর প্রতিনিধি শাহ আলম উজ্জ্বল এবং যমুনা টিভির ক্যামেরাম্যান দেলোয়ার হোসেনকে গুরুতর আহত হন। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, গতকাল রবিবার বিকালে ময়মনসিংহের শিকারিকান্দা বেলতলি ব্রীজের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি বাসকে পিছন থেকে অপর একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে ও বাস চালক-শ্রমিকসহ স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয় কমপক্ষে ৩০ জন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি বাস ভাংচুর করে স্থানীয়রা। Mymenisngh Journalist Attackএ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেলতলি ও ত্রিশাল বাইপাস জিরো পয়েন্টে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা কমপক্ষে ৪৫টি বাস ভাঙচুর করে।

পরে আজ আবারও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেলতলি নামক স্থানে সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখে এবং গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা রাস্তার দু-পাশে শুকাতে দেয়া কৃষকের ধান পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ওই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা দুই সাংবাদিককে মারধর ও তাদের ক্যামেরা এবং মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে পেলে।

আহত সাংবাদিক শাহ আলম উজ্জ্বল জানান, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষার্থীরা বলে, গতকাল তোরা আমাদের বিপক্ষে নিউজ করে আজ আবার এসছিস। এই কথা বলেই আমাকে রড দিয়ে মারতে মারতে বলতে থাকে আমাদের পক্ষে নিউজ না করলে তোদেরকে ছাড়ব না। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ছাত্রদের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসি।

সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাই এর ঘটনার প্রতিবাদে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের Mymenisngh Journalist Attack (2)সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল করিম খোকন, সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন,

ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, আমরা সাংবাদিকদের মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছি। সন্ধ্যায় মামলা দায়ের করব। ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর আঘাত করা অত্যান্ত দুঃখজনক। ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়ে বসে সাংবাদিকদের সাথে বিষয়টি দ্রুতই মীমাংসা করার কথা জানান তিনি।

জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয়টি শুনে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে গিয়েছি। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে এ নিয়ে কথাও বলেছি। তারা মামলা করতে চাইলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ad