যুক্তরাষ্ট্রের গ্রন্থে শীর্ষ নারী রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে শেখ হাসিনা

United States, Book, Hasina
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বর্তমান ১৮জন নারী জাতীয় নেতার মধ্যে অন্যতম হিসেবে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত ‘নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক এক গ্রন্থে। গ্রন্থের প্রচ্ছদে নারী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ছবি মুদ্রিত হয়েছে। গ্রন্থটির লেখক হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও’ব্রেইন।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির ওমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ক্লাবে (ডব্লিউএনডিসি) বিদেশী কূটনীতিক, নারীনেত্রী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়।

গ্রন্থটির লেখক ও’ব্রেইন প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক পটভূমির উল্লেখ করে লিখেছেন, তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। লেখক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ওই সময়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন (শেখ রেহেনা) দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।

১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর আওয়ামী লীগকে পরিচালনার নেতৃত্বের পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি নির্বাচনী কারচুপি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় তাকে দমন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং আশির দশকে তিনি গৃহবন্দী হন। এরশাদের শাসনামলের নির্যাতন সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এতই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ছিলেন যে তাঁর চাপে ১৯৯০ সালে একজন সামরিক জান্তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

রিচার্ড তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষুদ্রঋণ সম্মেলনে সভাপতিকে সহায়তা ও নারী কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য তিনি (শেখ হাসিনা) মাদার তেরেসা পদক ও গান্ধী পদক অর্জন করেছেন।

লেখক বাংলাদেশকে অধিকতর স্থিতিশীল ও অধিকতর গণতান্ত্রিক এবং অপেক্ষাকৃত কম হিংসাত্মক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রয়াসের প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক শেখ হাসিনার এই উক্তি উদ্ধৃত করেন, ‘বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই আমি গর্বিত হব।’

ad