রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকে করতে হবে: জাতিসংঘ

Rohingya, Myanmar, United Nations delegation,
ad

জাগরণ ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

রবিবার (২৯ এপ্রিল) কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে সংবাদ সম্মেলনে তারা এমন মন্তব্য করেন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান গুস্তাভো মেজার চুয়াদ্রার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যয়ের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন চীন, রাশিয়া, যুক্তরারজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

বিশ্ব দরবারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি তুলে ধরে সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি তাদের সার্বিক অবস্থা জেনেছি। আমরা সফর শেষে তাদের কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবো।

তারা জানান, নিরাপদ প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সে লক্ষ্যে একমত হয়েছে রাশিয়া ও চীন।

এ সময় দলটির অন্যান্য সদস্যরা বলেন, এই সমস্যার কোনো ম্যাজিক সমাধান নেই, নেই কোনো জাদুর কাঠি। আমরা দুই দেশের সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করবো।

কুয়েতের প্রতিনিধি মনসুর আল উতাইবি আশ্বাস দিলেন, আমরা এখান থেকে মিয়ানমারে যাবো ও সেখান থেকে নিউইয়র্কে ফিরে বিষয়টি নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করবো। তবে আমরা এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না যে, আমরা দ্রুত কোনও ব্যবস্থা নেবো।

সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, তারা (প্রতিনিধিদলের সদস্যরা) সমস্যার গভীরতা বোঝেন। তারা এই ব্যাপারে নজর দেবেন বলেও জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালি ও কুতুপালং আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে যায় প্রতিনিধি দলটি। কুতুপালংয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের ২৬ জন প্রতিনিধি ৪ দলে বিভক্ত হয়ে আশ্রয় শিবির ঘুরে দেখেন। এ সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের আসার খবরে বিভিন্ন দাবি নিয়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন রোহিঙ্গারা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ে এই প্রতিনিধি দলের উখিয়া সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাড়ে ৭০০ পুলিশ সদস্য পুরো এলাকা ঘেরাও করে রাখেন।

ad