শুভ নববর্ষ ১৪২৫

শুভ-নববর্ষ-১৪২৫
ad

জাগরণ ডেস্ক: আজ পহেলা বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। ১৪২৪ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে হাজির হয়েছে নতুন বছর ১৪২৫। জীর্ণ–পুরাতনকে ভাসিয়ে দিয়ে নতুনকে বরণ করার দিন। নববর্ষ মানে উৎসব, নতুনের আবাহন। স্বাগত বাংলা নববর্ষ।

নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মেতেছে সারাদেশ। দেশজুড়ে রয়েছে বর্ষবরণের নানা আয়োজন। আজ গান হবে, বাজবে সুরে সুরে বাদ্যযন্ত্র। সুদূর অতীত থেকে বাংলা ঘরে ঘরে উদযাপিত হয়ে আসছে বাংলার এই সর্বজনীন উৎসব।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের নানা বয়সী মানুষ সাড়ম্বরে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠছে। পোশাক, খাওয়া-দাওয়া, গান,বাদ্য, সবকিছুতেই থাকছে বাঙালীয়ানা। সকালেই নগরবাসী ঘর থেকে সুসজ্জিত হয়ে বেরিয়ে পড়েছে। নারীরা পরনে লাল-সাদা শাড়ি, পুরুষের পরনে নকশা করা পাঞ্জাবী ও ফতুয়া। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছে গালে, বাহুতে আলপনা আঁকা ফুটফুটে শিশুরা।

বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসবে। পয়লা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারাদেশ। বর্ষবরণের এ উৎসব আমেজে মুখরিত থাকবে বাংলার চারদিক। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালী মিলিত হবে তার সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। দেশের পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসবমুখরতার বিহ্বলতা।

বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ রীতি এখনো এ দেশের নিজস্ব সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে উৎসবের পরিধির আরো বিস্তার ঘটিয়েছে। কৃষক সমাজ আজও অনুসরণ করছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। এককালে কেবল গ্রামাঞ্চলেই পয়লা বৈশাখের উৎসবে মেতে উঠত মানুষ। নানা অনুষ্ঠান, মেলা আর হালখাতা খোলার মাধ্যমে তখন করানো হতো মিষ্টিমুখ। এখন আধুনিক বাঙালী তাদের বাংলা নববর্ষকে সাজিয়ে তুলছে মাতৃভূমির প্রতিটি আঙিনায় আরো বেশি উজ্জ্বলতায়।

নববর্ষ উপলক্ষে দেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিক তুলে ধরে ক্রোড়পত্র বের করবে। সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নববর্ষকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে।

১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসন ভিত্তি করে প্রবর্তন হয় নতুন এই বাংলা সন। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালী জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশাখের অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর প্রতিকার করতে গিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে উৎসব পালনের সময়সীমা এবার কমিয়ে দিয়েছে। গতবারও এটা করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে গতবারের মতো এবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিধিনিষেধের এই ধারা স্থায়ী হলে বর্ষবরণের উৎসব স্বতঃস্ফূর্ততা হারাতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

নববর্ষ আসে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যয় নিয়ে। সব অশুভ ও অসুন্দরকে পেছনে ফেলে বৈশাখ আসে নতুনের কেতন উড়িয়ে। সবাই নির্বিঘ্ন-নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিক, এটাই সবার প্রত্যাশা। নতুন বছরে সবার মঙ্গল হোক। সবার জীবন শান্তিময় হোক।

ad