‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আজ

'Sheikh Hasina Dharla Bridge', inauguration, tomorrow,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: আজ কুড়িগ্রামে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়কসেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হচ্ছে।

রবিবার (৩ জুন) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফুলবারী উপজেলায় অবস্থিত সেতুটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

এরপর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’। সেতুটির উদ্বোধন উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সেতুটির সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ফুলবারী এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্মাণ করা হয়েছে মঞ্চ ও প্যান্ডেল।

এর আগে শনিবার (২ জুন) সেতুটির উদ্বোধন উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, কুড়িগ্রাম এলজিইডির তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই গার্ডার সেতুটি বানানো হয়েছে। এই সেতুটি উত্তর ধরলার তিনটি ইউনিয়নসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

'Sheikh Hasina Dharla Bridge', inauguration, tomorrow,

সেতুটির সুবিধা পাবেন দুই জেলার কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়কসেতু। ৯৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার চওড়া সেতুটির ১৯টি স্প্যান ও ৯৫টি গার্ডার রয়েছে।

দুই জেলার মানুষের চলাচলের ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করার জন্য দীর্ঘদিনের দাবির কারণে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এই সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সেতুটি নির্মাণ করছে সিমপেক্স এবং নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপ।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ বলেন, মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ফুলবাড়ী ও লালমনিরহাট অংশে ২ হাজার ৯১৯ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাবদ ১৩ কোটি ৯ টাকা, ৩ হাজার ৪৮০ মিটার নদী শাসনে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৩ একর।

ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকার জনগণ জানিয়েছেন, সেতুটি চালুর ফলে সোনাহাট স্থল বন্দরের সাথে দেশের অন্য জেলা গুলোর যোগাযোগ সহজতর হওয়ায় ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

কৃষি পণ্যের পরিবহন বিপণন, মুমূর্ষ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে। এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে নদীর পাড়ের মানুষ।

ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার ১০ লাখ মানুষ রংপুর বিভাগীয় শহরে সহজে যাতায়াত করতে পারবে। ঢাকার সাথে সড়ক পথে ফুলবাড়ীর উপজেলার দূরত্ব কমবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার।

‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যসহ অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে।

ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থল বন্দরের মাধ্যমে ভারতের আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও অরুণাচল এই সাতটি রাজ্যের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে, বাড়বে আমাদানি-রপ্তানি।

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী সাংবাদিকদের বলেন, এই সেতুটি ছিল ফুলবাড়ীবাসীর স্বপ্নের সেতু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং উদ্বোধনও করবেন। তাই গোটা জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে ।

ad