সাগরে পানি বৃদ্ধির কারণে উপকূলের ৩০ গ্রাম প্লাবিত

Coast, 30 villages, flooded,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বৈরি আবহাওয়া ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সাগর ও পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমতলী ও তালতলী উপকুলীয় অঞ্চলের চর ও নিম্নাঞ্চলসহ ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একইসঙ্গে গত দু’দিন ধরে ভারি বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, আকাশে প্রচণ্ড মেঘ থাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার (১২ জুন) সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা করেছে। মেঘমেলার কারণে এ অঞ্চলে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।

আমতলী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, গত দু’দিন ধরে বৈরি আবহাওয়া ও ভারি বর্ষণের প্রভাবে সাগর ও পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাগর মোহনা ও পায়রা নদী সংলগ্ন চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমতলীর বালিয়াতলীর বয়াতি বাড়ি সংলগ্ন ২০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বালিয়াতলী, ঘোপখালী, পশুরবুনিয়া, দক্ষিণ ঘাপখালী ও চরকগাছিয়া এবং তালতলীর তেতুঁলবাড়ীয়া নামক স্থানের এক কিলোমিটার ভাঙা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আগাপাড়া ও মোয়াপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাঁধ ভাঙা এলাকার মানুষ জোয়ারের পানিতে ভিজছে আবার ভাটায় শুকাচ্ছে। ওই এলাকার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছে। বৃষ্টির পানিতে মাঠঘাট তলিয়ে গেছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাহিরে সাগর ও পায়রা নদী সংলগ্ন নিদ্রা সকিনা, ফকির হাট, তালুকদারপাড়া, নিশানবাড়িয়া, ফাতরা, জয়ালভাঙ্গা, খোট্টার টর, আশার চর, তালতলী, তালুকদারপাড়া, চরপাড়া, গাবতলী, লেমুয়া, মৌপাড়া, ছোটবগী, পচাঁকোড়ালিয়া, বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, আমতলী ফেরীঘাট, লঞ্চঘাট, শ্বশ্মান ঘাট, আমুয়ার চর ও গুলিশাখালী গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

তেতুলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত দু’মাস পূর্বে তেতুলবাড়ীয়ার এক কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

গাবতলী গ্রামের আইউব আলী ফরাজী জানান, গাবতলী, লেমুয়া ও চরপাড়া তিনটি আবাসনের ৫২টি ব্যারাকে ৫২টি পরিবার বসবাস করে। পায়রা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাসন তলিয়ে ওই পরিবারগুলো দুর্ভোগে পড়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান মুঠোফোনে বলেন, তালতলীর তেতুঁলবাড়িয়া ও আমতলীর বালিয়তলীর বয়াতি বাড়ি সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজনের সাথে সমন্বয় করে অল্পদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পায়রা নদীতে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ad