সারাদেশে বন্দুকযুদ্ধে ৫ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

বন্দুকযুদ্ধ
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে দেশের চার জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

বুধবার (১১ জুলাই) ভোররাতে কুষ্টিয়া, নাটোর, লক্ষীপুর ও ঢাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া

জেলার মিরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে” মাদক ব্যবসায়ী ফুটু ওরফে মোন্না (৩৫) ও রাসেল আহম্মেদ (৩০) নিহত হয়েছেন। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছে।

বুধবার (১১ জুলাই) ভোররাতে মিরপুর উপজেলার কূর্শা ইউনিয়নের আনান্দ বাজার বালুচর সংলগ্ন জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মোহাই মিনুল জানান, মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে অবস্থান করছে এমন সংবাদে সেখানে অভিযানে যায় র‌্যঅব। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য কর গুলি চালায়।  জবাবে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ সময় অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব জানায়, বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ব্যাক্তি তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ র‌্যাব সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশী নাইম এমএম পিস্তল, ১টি দেশী ওয়ান শুটারগান, গুলি, ৪০ লিটার চোলাই মদ, ১৫০০ পিছ ইয়াবা ও ২৩০ বোতল ফেনসিডিল  উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ফুটু ওরফে মোন্না রাজারহাট মোড় এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে ও রাসেল আহম্মেদ একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।

নাটোর

জেলার বড়াইগ্রামে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ওসমান গনি নামে এক মাদক ব্যাবসায়ী নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) রাতে উপজেলার বাহিমালী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওসমান গনি বনপাড়া পৌর এলাকার মৃত মনছুর আলীর ছেলে।

র‌্যাব-৫ সিপিসি-২ এর মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, বড়াইগ্রাম উপজেলার বাহিমালী বাজারের দিক দিয়ে র‌্যাবের একটি টিম টহল দিচ্ছিল। এ সময় বাহিমালী বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি সন্তেহজনক ঘোড়াঘুরি করলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের ডাক দিলে তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওসমান গনি গুলিবিদ্ধ হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

র‌্যাব জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ বেশ কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। গনি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিল

লক্ষ্মীপুর

জেলার রায়পুরে এক পলাতক আসামী গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের মাদক উদ্ধার অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

নিহত মো. সোহেল রানা ওরফে সুরাইয়া সোহেল দেনায়েতপুর গ্রামের আবদুল মুনাফের ছেলে ।

তার বিরুদ্ধে রায়পুর ও চাঁদপুরের হাইমচরসহ বিভিন্ন থানায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২২টি মামলা রয়েছে বলে রায়পুর থানার ওসি আজিজুর রহমানের ভাষ্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে সোহেল রানাকে তারা গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে রাত ৩টার দিকে রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের সিংয়ের পুল এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে ইয়াবা উদ্ধারে অভিযানে যায় পুলিশ।

ওসি বলেন, সেখানে গেলে সোহেলের সহযোগিরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের দিকে গুলি ছোড়ে । ওই সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এর মধ্যে সোহেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, তিন রাউন্ড গুলি ও ৩০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে গ্রেপ্তার অপহরণ, হত্যা ও মাদক মামলার এক আসামী ঢাকার কেরানীগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশের মাদক উদ্ধার অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

কেরানীগঞ্জের দেওসুর এলাকার মনীর হাজির বালুর মাঠে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহ জামানের ভাষ্য।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ জুবায়ের বলছেন, নিহত নূর হোসেন নূরার (৩৫) বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৮টি মামলা রয়েছে। পুলিশের ‘শীর্ষ মাদক চোরাকারবারীর’ তালিকাতেও তার নাম ছিল।

ad