১২০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি; আটক ২

Arrest
ad

জাগরণ ডেস্ক: নড়াইল-১ এর সাংসদ কবিরুল হক মুক্তির ব্যবসায়িক পার্টানারসহ মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর দুই পরিচালককে ১২০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১৫ মে) রাজধানী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (মামলা নম্বর-১২/১৭০)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও পরিচালক খন্দকার সুরাত আলী। মামলায় এই দুইজন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, পরিচালক এম হক বাবু ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি গোয়েন্দা দল গত বছরের ২০ আগস্ট মধ্যরাতে চট্টগ্রাম থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানে (ঢাকা মেট্রো ট-১৪-২৮২৩) করে ঢাকায় পণ্য নিয়ে আসে।

পুরান ঢাকার ইসলামপুরে পণ্য খালাস করার পূর্ব মুহূর্তে গাড়ির চালকের কাছে পণ্যের স্বপক্ষে চালান দেখাতে বলা হলে তিনি পণ্যের স্বপক্ষে বিল অব এন্ট্রি, তানিয়া কার্গো সার্ভিসের ডেলিভারি চালান ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির চালান প্রদর্শন করেন।

মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাট্রিজ লি., ৯১, ধউর, থানা রোড, তুরাগ, ঢাকা নামীয় প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল কেন ইসলামপুরে আনা হয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম থেকে পণ্য বোঝাই করে গাড়িটি প্রথমে উল্লিখিত ঠিকানায় নেয়ার জন্য ভাড়া করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকার কাছাকাছি আসার পরে ট্রাক বোঝাই কাপড় ইসলামপুর নিয়ে আসার জন্য বলা হলে তিনি ইসলামপুর নিয়ে আসেন।

আইএম-৭ এর মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধার কাঁচামাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইসলামপুর আনা হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শুল্ক গোয়েন্দা দল ওই পণ্যসহ গাড়িটি আটক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সেগুনবাগিচায় নিয়ে আসে।

পরে ওই প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানিসহ যাবতীয় কার্যক্রম অনুসন্ধানের জন্য শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি খোঁজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য জানতে পারে।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, সৈয়দ আবিদুল ইসলাম নড়াইল-১ (কালিয়া-নড়াগাতি) এর সাংসদ কবিরুল হক মুক্তি’র বিশ্বস্ত সহযোগী এবং ব্যবসায়িক পার্টনার। সাংসদ কবিরুল হকের বেশিরভাগ অর্থ এই আবিদুল ইসলাম এবং সাংসদের শ্যালকের নিকট সংরক্ষিত থাকে বলে জানা গেছে।

কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক পৌর মেয়র ইকরামুল হক টুকু জানান, সাংসদ মুক্তি’র অবৈধ আয় এবং দুর্নীতির টাকা লেনদেন হয় এই আবিদুল ইসলামের হাত ধরে। সাংসদের টাকা বিভিন্ন দেশে পাচারের সহযোগিতা করেছে এই ব্যবসায়ী। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বলেন, এমপি মুক্তি তার দুর্নীতির টাকা পাচার করতো এই আবিদুল ইসলামের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সরঞ্জাম সহ রাজধানীর গুলশান থেকে এই আবিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। সেই সময় এমপি মুক্তি তার প্রভাব খাটিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন।

ad