আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের গডফাদার সিআইডির জালে

Achem
ad

জাগরণ ডেস্ক: সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের গডফাদার মোহাম্মদ আছেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

গতকাল রবিবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

আছেম কক্সবাজারের টেকনাফ জেলার মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা। সে বর্তমানে তেজগাঁও কলেজের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের প্রভাষক পদে চাকরি করছে।

সিআইডি জানায়, ২০১৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র সাগর পথে সিরাজগঞ্জের মাসুদ নামে একজনকে মালয়েশিয়ায় পাচার করে। এরপর পাচারকারীরা তাকে আটকে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে মাসুদের বাবা মুক্তিপণের ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্তি দেয়া না হলে এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে উল্লাপাড়া থানায় একটি মামলা করেন।

সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম এই মামলাটি তদন্ত করে জানতে পারে যে, একটি সংঘবব্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী গ্রুপ মাসুদকে পাচারের সাথে জড়িত।  পরে একটি ব্যাংক একাউন্টের সূত্র ধরে সিআইডি পাচারকারী চক্রকে সনাক্ত করে। এরপর চক্রের বাংলাদেশের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী মোহাম্মদ আছেমকে গত ১৯ আগস্ট কাওরানবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

আছেমের বাবা আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন এবং বড়ভাই মোহাম্মদ খোবায়েদ দীর্ঘদিন যাবৎ মালয়েশিয়া আছেন। এর সুবাদে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী গ্রুপের সাথে তাদের সক্ষতা গড়ে উঠে। আছেম ২০১০ সালে তাদের সাথে কাজে যোগ দেয়। আছেম ও তার ছোট ভাই জাভেদ মোস্তফা মানব পাচার করার জন্য প্রথমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গাতে দালাল নিয়োগ করে এবং সারাদেশে একটি নেটওয়ার্ক তৈরী করে।

তারা মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশী দালালের মাধ্যমে প্রথমে লোকজন সংগ্রহ করে। এরপর দালালদের মাধ্যমে সংগৃহীত লোকজনকে টেকনাফ থেকে ট্রলারযোগে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ডে নিয়ে জঙ্গলে আটকিয়ে রাখে। সেখানে পাচারকৃত লোকদের আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। যারা টাকা প্রদানে ব্যর্থ হয় তাদেরকে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মেরে ফেলা হয়। মুক্তিপণের টাকা প্রদানকারীদের মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর তাদের নিকট আবার টাকা দাবি করা হতো। টাকা দিতে না পারলে করা হতো নির্যাতন। আছেম তার নিজ নামে, ছোট ভাই জাভেদ মোস্তফা, মা খদিজার নামে এবং তার সহযোগি আরিফ, একরাম, ওসমান সারোয়ারের নামে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করতো।

সিআইডি জানায়, আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীরা কক্সবাজার সাগর চ্যানেল দিয়ে গত কয়েক বছর হাজার হাজার মানুষকে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচার করেছে এবং পাচারের সময় সাগর পথে মৃত্যুবরন করেছে শত শত বাংলাদেশী নাগরিক। এখনও নিখোঁজ আছে অনেক মানুষ, যাদের খোঁজ মেলেনি আজো। গত কয়েক বছরে এই চক্রটি শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ad