‘কাউকে জানালে স্বামী-সন্তানের ক্ষতি হবে’

fake gold dall.
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় সোনার পুতুলের ফাঁদে ফেলে প্রতারক চক্র এক গৃহবধূর দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে। 

গফরগাঁও উপজেলার পাকাটি গ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক বাদল মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সাথে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

সোমবার (৭ মে) রাতে এ ঘটনায় বাদল মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম গফরগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

গৃহবধূ জানান, গত ২৯ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে আল্লাহর ওলি দাবি করে জায়নামাজ ও কোরআন শরীফ কেনার জন্য ২ হাজার ৮০০ টাকা বিকাশে পাঠাতে বলে। এই ঘটনা কাউকে জানালে স্বামী-সন্তানের ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখায়।

পরে গৃহবধূ ২৮০০ টাকা বিকাশ করেন। অজ্ঞাত ব্যক্তি আবারও ফোন করে জানায় ‘আল্লাহ তোমাকে একটি স্বর্ণের পুতুল দান করেছেন, পুতুলটি বিক্রি করে মসজিদ নির্মাণ করবে। ৩ হাজার ৩৫১ জন ওলিদের মিষ্টি খাওয়ার জন্য ৩৩ হাজার ৫১০ টাকা পাঠাতে হবে। স্বর্ণের পুতুলের আশায় গৃহবধূ ৩৩ হাজার ৫১০ টাকা বিকাশ করেন।

কয়েকদিন পর অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে জানায়, ‘আল্লাহর দেয়া সোনার পুতুলটি পাকাটি এলাকার মসজিদের পাশে লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় আছে। পুতুলটি এনে মাটিতে পুতে রাখলে এর আকর্ষণে ৭ কলসি স্বর্ণালঙ্কার ঘরে আসবে।

প্রতারক চত্রু আবার ফোন করে জানায় ৭ কলসি স্বর্ণালংকার পেতে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বিকাশ পাঠাতে হবে এবং পাকাটি মসজিদের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬ ভরি রুপার অলংকার রেখে আসতে হবে।

কথামত গৃহবধূ পাকাটি মসজিদের পাশে লাল কাপড়ে মোড়ানো তামার একটি পুতুলকে সোনার পুতুল ভেবে ঘরে নিয়ে আসে। পুতুলটি বাড়িতে রেখে অজ্ঞাত ব্যক্তির দেয়া চারটি নম্বরে তিনি আরও ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বিকাশ করেন এবং আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬ ভরি রুপার অলংকার পাকাটি মসজিদের কাছে রেখে আসেন।

এরপর থেকে ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গৃহবধূ বুঝতে পারেন তিনি প্রতারক চত্রেুর হাতে প্রতারিত হয়েছেন।

ad