পাগলা মসজিদের দান বাক্সে ৮৮ লাখ টাকা

Kishoreganj, Pagla Mosque, donation box, 88 lakh tk
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান বাক্সগুলো আবারও খোলা হয়েছে। দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা পাওয়া গেছে। দানবাক্স থেকে সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।

শনিবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তিন মাস সাতদিন পর ছয়টি লোহার তৈরী দানবাক্স খোলা হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গণনার পর এ টাকার হিসাব পাওয়া যায়। গণনার কাজে বিভিন্ন ব্যাংকের ৫০ জন কর্মকর্তা, শতাধিক মাদ্রাসার ছাত্রসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্সের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ দৈনিক জাগরণকে জানান, তিন মাস পরপর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। এবার তিন মাস সাতদিন পর খোলা হয়েছে।

Kishoreganj, Pagla Mosque, donation box, 88 lakh tk

পরে টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলামের কাছে ব্যাংকের মসজিদ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। যে স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে, তা আগের পাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে যুক্ত করে সিন্দুকে রেখে দেয়া হয়েছে। এছাড়া, দানে পাওয়া গবাদিপশু ছাগল, হাস-মুরগি প্রতি সপ্তাহেই নির্ধারিত দিনে নিলামে বিক্রি করা হয়।

গত ৩১ মার্চ ২০১৮ সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে গণনা শেষ করে ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে আনুমানিক চার একর জায়গায় ‘পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স’ অবস্থিত। প্রায় আড়াইশ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে, যা ভক্ত ও মুসল্লিদের আকর্ষণ করে।

তিন তলা ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট পাগলা মসজিদের সুউচ্চ মিনার বহুদূর থেকে নজরে আসে। এছাড়া, একটি এতিমখানা ও হাফেজি মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত আছে। সম্প্রতি কমপ্লেক্সের জায়গায় একটি কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এ কারণেই মূলত দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে মানত করতে আসেন। দানবাক্সে পাওয়া টাকা সাধারণত বিভিন্ন মসজিদে দান-খয়রাত, মাদ্রাসার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

ad