কুষ্টিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ২ মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ!

kushtia highway
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: সড়কপথে দক্ষিণবঙ্গের সাথে উত্তরাঞ্চলের ৩২ জেলার যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়ক দুইটি যান চলাচলের একবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মহাসড়ক দুটি জুড়ে অগণিত খানা-খন্দক ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টিসহ কোথাও কোথাও সড়কের অস্তিত্বই হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য মহাসড়ক দুইটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে!

মহাসড়ক দুইটির ভয়ানক বেহাল দশায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের যেন টনক নড়ছে না। দায়সারা ও ক্রুটিপূর্ণ সংস্কার কাজে গত দুই অর্থ বছরে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা গেছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের গাফিলতি, অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ এবং দায়সারা ও ক্রুটিপূর্ণ সংস্কারের ফলে গত দুই বছরে জনগুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়ক দুইটি চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। ওই দুই মহাসড়কসহ কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের আওতাধীন ২৬১ কিলোমিটার সড়কের পুরাটাই যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

তবে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহসড়ক দুইটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২০১৪-২০১৫ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দুইটি মেরামতের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে একেবারে অপর্যাপ্ত ওই বরাদ্দে সাময়িক দায়সারা সংস্কারে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

Kushtia, 2 highways, mortal traps,

ফলে সংস্কারের পরই পরই ওভারলোডেড গাড়ির অব্যাহত চাপ ও বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে মহাসড়কের সংস্কারকৃত কাজগুলো ধুয়ে-মুছে বিলীন হয়ে গেছে। যান চলাচলের অযোগ্য এই মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রানহানি ঘটছে। পর্যায়ক্রমে এই বেহালদশা সৃষ্টি হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের যেন নেই কোনো মাথা ব্যথা।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি মাহবুব-উল আলম হানিফের নির্বাচনী এলাকার অর্ন্তভুক্ত স্থানীয়রা মহাসড়কের বেহাল দশা ও দুর্ভোগে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অতি সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা কালবিলম্ব না করে মহাসড়ক দুইটি মেরামতের দাবি তোলেন। অন্যথায় গাড়ি চলাচল বন্ধের হুমকি দেয়া হয়।

পথচারী, যানবাহনের যাত্রী, চালক ও মহাসড়ক সংলগ্ন বসতবাড়ির মানুষজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গাড়ি চলাচলের সময় প্রচণ্ড ধুলায় চারিদিক আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এছাড়া প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০টি যানবাহন পথিমধ্যে বিকল ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

অপরদিকে, ধুলা থেকে পরিত্রাণের জন্য মহাসড়ক সংলগ্ন বসতবাড়ির শত শত মানুষ ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রেখে একরকম অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করছেন। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড ধুলায় চোখের রোগ ও শ্বাসকষ্ট বাড়ছে বলে রানাখড়িয়া এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

এদিকে সম্প্রতি মাত্র ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় ধার্য করে মহাসড়ক দুইটির আওতাধীন ৪৩ কিলোমিটারের মধ্যে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলে ওই টেন্ডারে কোনো ঠিকাদারই অংশগ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে পুনঃটেন্ডার আহ্বানের পর তা এখন সড়ক বিভাগের খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রকৌশলীর দপ্তরে মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, টেন্ডার অনুমোদন সাপেক্ষে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া ঈশ্বরদী মহাসড়কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ কিলোমিটার মজবুতকরণসহ ‘ওভার লে’ করা হবে। তবে এই সংস্কার কাজটিও সাময়িক। ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক দুইটির পুরো অংশ পুননির্মাণের মাধ্যমে টেকসই করতে ১০০ কোটি টাকার অধিক প্রয়োজন বলে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।

বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাভলু জানান, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। করুণ দশায় পরিণত মহাসড়ক দুইটিতে প্রতিদিন দুর্ঘটনা, গাড়ি বিকলসহ যন্ত্রাংশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অতিসত্বর মেরামত কাজ শুরু না হলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক দুইটির অধিক ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে টেন্ডার উন্মুক্ত ও অনুমোদনের পর সংস্কার কাজ শুরু হবে।

ad