ঝালকাঠিতে অস্বচ্ছল সহপাঠীদের পাশে দাঁড়ালো বন্ধুরা

Adorable classmates, standing next to friends,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নিজ বিদ্যালয়ের অস্বচ্ছল সহপাঠীদের নতুন পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ উপহার দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের বুঝিয়ে নিজেদের ঈদ খরচের টাকা বাঁচিয়ে ২৩ জন সহপাঠীর জন্য উপহার কিনেছেন। শিক্ষার্থীদের এ কাজে জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উৎসাহ দিয়েছেন।

রমজানে মাসে বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার আগেই বন্ধুদের কাছ থেকে ঈদের নতুন পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী উপহার হিসেবে পেয়ে দারুন আনন্দিত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৬ মে) বিকালে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক সুলতান আহমেদ, নান্টু রঞ্জন বিশ্বাস, আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, শাহাদাত হোসেন, দশম শ্রেণির ছাত্র মো. মিনহাজুর রহমান শিহাব ও আহনাফ রহমান নাফিম। শিক্ষক ফয়সাল রহমান জসিম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফা বেগম জানান, বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা মেধাবী কিন্তু অস্বচ্ছল পরিবারের। তারা বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসে, পড়ালেখাও অনেক ভালো। কিন্তু তাদের ভালো পোশাক নেই।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের বন্ধুদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সাধ্য অনুযায়ী সবাই মিলে বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঈদের খরচ কমিয়ে বাবা মায়ের কাছ থেকে টাকা এনে জমা রাখে। সমষ্টিগতভাবে তারা এই টাকা দিয়ে সহপাঠীদের জন্য উপহার হিসেবে নতুন পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ কেনার উদ্যোগ নেয়।

প্রধান শিক্ষক মারুফা বেগম আরও জানান, বিষয়টি যেন অন্য সব শিক্ষার্থীরাও জানতে পারে এবং উৎসাহিত হয় তাই আমরা ছাত্র-শিক্ষক মিলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। অল্প বয়সেই শিক্ষার্থীরা অপরের দুঃখকে বোঝার চেষ্টা করছে। তাদের এ মহতি উদ্যোগ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মিনহাজুর রহমান শিহাব জানায়, আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। যখন বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে আলোচনা হলো, তখন সহপাঠীদের পুরনো পোশাক দেখে সত্যিই খুব খারাপ লাগতো। বিষয়টি অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করলে সবাই বুঝতে পারে এবং বন্ধুদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। আমরা বাবা-মাকে বুঝিয়ে আসন্ন ঈদে নিজেদের খরচের টাকা থেকে কিছু অগ্রিম নিয়েছি। তাই দিয়ে বন্ধুদের জন্য নতুন পোশাক কিনেছি।

জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসার দৃষ্টান্ত দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। শিশু বয়সেই তাদের সহপাঠীদের দুঃখকে জয় করার প্রচেষ্টা ভালো লেগেছে। এভাবে শুধু বিদ্যালয়েই নয়, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রেই একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। সেটাই হবে ঈদের প্রকৃত আনন্দ।

ad