ফরিদপুরে ব্যাংকার ও শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার

Faridpur, banker, teacher, dead body, rescue,
ad

জাগরণ ডেস্ক: ফরিদপুর শহরে একটি ফ্ল্যাট থেকে সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের এক শিক্ষিকা ও সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল শাখার অডিট কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

রবিবার (৬ মে) রাত ১১টার দিকে শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলি এলাকায় চারতলা ভবনের নিচ তলার ফারুক হাসানের কক্ষ থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই কলেজ শিক্ষিকার নাম সাজিয়া বেগম। তিনি সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি দুই ছেলে নিয়ে এই ভবনে থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করেন। তাদের বাড়ি রাজধানীর সূত্রাপুর থানার বানিয়া নগর। ব্যাংক কর্মকর্তার নাম ফারুক হাসান। তার বাড়ি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ওই এলাকার নূরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলায় তিনটি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে পৃথক দুটি ফ্ল্যাট ভিন্ন ভিন্ন সময় ভাড়া নেন সাদিয়া বেগম ও ফারুখ হাসান। রাতে ফারুখ হাসানের ঘর থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ফারুখের গলায় দড়ি বাঁধা ও সাদিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, বাড়ির মালিক রাতে পুলিশে খবর দিলে তারা সেখানে গিয়ে নিচতলায় ফারুকের ফ্ল্যাট থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করে। সাজিয়া বেগমের মরদেহ দরজার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। গায়ে কোপের দাগও ছিল। আর ফারুক হাসানের লাশ ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলছিল। লাশ দুইটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাড়ির মালিকের ছেলে ডেভিড বলেন, রাজেন্দ্র কলেজের অভিষেক অনুষ্ঠানের কনসার্ট ছিল। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কনসার্ট শেষে বাড়ি ফিরে নিচতলার ওই ফ্লাটের দরজা খোলা দেখতে পাই। দরজার ফাঁকা দিয়ে দেখতে পাই ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ ঝুলছে। আমি সাথে সাথেই পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে লাশ উদ্বার করে।

ডেভিড বলেন, নিহত কলেজ শিক্ষিকা এক বছর আগে এই বাসা ভাড়া নেন। আর ব্যাংক কর্মকর্তা এক মাস আগে ভাড়া নেন। এক মাস আগে বাসা ভাড়া নিলেও তিনি থাকতেন না। দুইদিন আগে তিনি বাসায় এসে উঠেছেন।

সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতান মাহামুদ বলেন, গতকাল ম্যাডাম (সাজিয়া) কলেজে গিয়েছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কলেজ থেকে বাড়ির জন্য বের হয়ে যান। এরপর রাতে জানতে পারলাম ম্যাডামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা অনেক খুঁজাখুঁজির পরে না পেয়ে থানায় যাই। ঠিক তখনই বাড়ির মালিকের ছেলে থানায় গিয়ে পাশের ফ্লাটে মরদেহ ঝুলে থাকার খবর দেয়। সেই মরদেহ উদ্ধার করতে এসে পুলিশ ম্যাডামের মরদেহও উদ্ধার করে।

নিহত কলেজ শিক্ষিকার স্বামী শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, ৪টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা হয়। তখন সে জানায় বাসায় আসছে। এরপর রাত হয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করি, তার কলিগদের জানাই। পরে থানায় জানাই।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, তারা পাশাপাশি ফ্লাটে থাকতেন। কেন তারা এক হলেন বিষয়টি পরিষ্কার নয়। তদন্ত করে দ্রুত এ ঘটনার কারণ বের করা হবে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) বিপুল চন্দ্র দে জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাদিয়া বেগমের স্বামী শহীদুল ইসলামকে থানায় নেয়া হয়েছে।

ad