রাঙামাটিতে মুক্তিযোদ্ধাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ!

rangamati
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল সেন ও তার পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আদালতের রায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসন তাকে উচ্ছেদ করে।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) এই মুক্তিযোদ্ধাকে উচ্ছেদের পরদিন ঘাগড়া এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, ২৫-৩০ বছর আগে ঘাগড়া ইউনিয়নে খাস জমিতে ঘর তুলে  স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন মুক্তিযোদ্ধা অনিল সেন। কয়েক বছর আগে রাজ্যমনি ও বিশ্বজিৎ নামে স্থানীয় দুই ব্যক্তির সঙ্গে জমি নিয়ে অনিল সেনের বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে অনিল সেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন রাজ্যমনি ও বিশ্বজিৎ। পরে আদালতের রায়ে বৃহস্পতিবার তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় অনিল সেনের ইটের তৈরি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে ঘাগড়ায় ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। উচ্ছেদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধার পাশে থাকার ও তার পরিবারের পুনর্বাসনের ঘোষণা দেন তিনি।

অনিল সেনের বড় মেয়ে রুমা দে বলেন, আমাদের সাজানো সংসার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বাবা বাইরে বসে কান্না করছেন। আর মা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন।

ঘাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জগদীশ চাকমা বলেন, এভাবে ভাঙচুর করবে, এটা ভাবিনি। বিষয়টি দুঃখজনক।

রাঙামাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ বলেন, আদালতের নির্দেশে পেয়ে আমরা কাগজ দেখে উচ্ছেদ করেছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, আদালতের আদেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অনিল সেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন থেকে আপতত ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আমি অনিল সেনের সঙ্গে আছি। তার পুনর্বাসনের জন্য যা করা দরকার, সব করা হবে।

ad