শিক্ষা কর্মকর্তার প্রেমের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা প্রধান শিক্ষিকা!

Teacher
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মুন্সি রুহুল আসলামের প্রেমের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষিকা। ওই শিক্ষিকাকে কালেমা পড়ে আসলাম বিয়ে করলেও এখন স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছেন না। এমনকি তাদের সন্তানের দায়িত্বও অস্বীকার করছেন তিনি। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে আসলামের বিরুদ্ধে যৌতুক ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন ওই প্রধান শিক্ষিকা।

মামলা দুটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে বিচারধীন রয়েছে। এর মধ্যে যৌতুকের মামলায় রুহুল আসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

মামলার বিবরণ এবং ভিকটিম প্রধান শিক্ষিকার সাথে কথা বলে জানাগেছে, ২০১০ সালে কাশিয়ানী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে থাকাকালীন মুন্সি রুহুল আসলামের তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ইসলাম ধর্মমতে কালেমা পড়ে বিয়ে করেন তারা। এর কিছুদিন পর তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তবে সে সময় রুহুলকে তিনি কাবিন রেজিষ্ট্রি করার জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়নি।

তিনি জানান, ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর তার সন্তানের জন্ম হয়। এরপরও রুহুল আসলাম কাবিন রেজিষ্ট্রি করতে আগ্রহ দেখায়নি। এতে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। শেষে বাধ্য হয়ে আদালতের শরনাপন্ন হন তিনি।

প্রধান শিক্ষিকা আরও বলেন, সুখের আশায় ঘর বাধার স্বপ্নে বিভোর হয়ে সবর্স্ব খুইয়েছেন তিনি। রুহুল আসলাম তার সর্বনাশ করেছেন। মুন্সি রুহুল আসলাম সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করায় ডিএনএ টেষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি এখন অপেক্ষায় আছেন কখন তার সন্তানের স্বীকৃতি মিলবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুন্সি রুহুল আসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধ বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব প্রদানকারী ও সদর উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা যদি এভাবে শিক্ষিকাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বনাশ করে তবে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা কলুষিত হবে। নিরাপত্তার অভাবে শিক্ষিকারা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।

ad