সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর

Sirij boma
ad

জাগরণ ডেস্ক: ‘আল্লাহর আইন কায়েম ও প্রচলিত বিচার পদ্ধতি নিষিদ্ধের জন্য ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে একযোগে রাজধানীসহ দেশের ৩০০টি স্থানে ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এ সিরিজ বোমা হামলা। এতে দুইজন নিহত ও অন্তত তিন শতাধিক লোক আহত হয়। ৬৪ জেলার মধ্যে শুধু মুন্সিগঞ্জ জেলায় কোনো বোমার বিস্ফোরণ ঘটেনি সেদিন।

হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা-সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেছে বেছে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা।

হামলার জায়গাগুলোতে জেএমবির লিফলেট ছড়িয়ে দেয় জঙ্গিরা। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয় লিফলেটগুলোতে। ‘দ্রুত এদেশে ইসলামী হুকুম কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি।’ বিচারকদের বিশেষ বার্তা লিফলেটে লেখা ছিল এ ধরনের কথা। ইসলামী আইন বাস্তবায়ন না হলে আবারও হামলার হুমকিও দেয় জেএমবি।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী করা হয় ২৪২ জনকে। পরে পুলিশ ১৪৯টি মামলায় এক হাজার ১০৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয় আদালতে। এর মধ্যে ৯৩টির রায়ে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে ৩২০ জনকে সাজা দেন আদালত। তাদের মধ্যে ২৭ জনকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। খালাস দেওয়া হয় ৩৪৯ জনকে। কারাগারে আটক অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে সাত জঙ্গির।

বাকি মামলাগুলোর মধ্যে ১০টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অপর ৪৬টি মামলা আদালতে এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

জঙ্গি দমনে কাজ করছেন এমন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, পুরানো ও নব্য জেএমবি’র সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারাও পারস্পরিক নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সাংগঠনিকভাবে সংঘবদ্ধ হতে পারছে না। তবে তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই। খণ্ড-বিখণ্ড জেএমবির ছোট ছোট গ্রুপগুলো নাশকতা চালাতে ছক কষছে সারাক্ষণই। তবে বড় ধরনের হামলা করার মতো এখন তাদের কোনো সক্ষমতা নেই।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার পরও একের পর এক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে থাকে জঙ্গিরা। এতে দেশব্যাপী চরম নৈরাজ্য শুরু হয়। এসব বর্বরোচিত বোমা হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ তখন ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। আহত হন আরও অনেকে।

জেএমবির নেতাদের ফাঁসি

সিরিজ বোমা হামলার তিন মাসের মাথায় ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বোমা হামলা চালিয়ে বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদকে হত্যা করে জেএমবি’র জঙ্গিরা। ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০০৬ সালের ২৯ মে এ মামলার নিষ্পত্তি করে সাত শীর্ষ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে জেএমবি’র শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ইফতেখার হাসান আল মামুনের (ল্যাংড়া মামুন) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে জেএমবি’র প্রথম অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

ad