১৭ দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণের পরও সুন্দরবনে থেমে নেই দস্যুতা

Bagerhat dakot
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনীর সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেলেও থেমে নেই দস্যুতা। তারা নতুন উদ্যমে নতুন নতুন লোক সংগ্রহ করে নেমে পড়ছে দস্যুতায়। এতে করে বিফলে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ।

এদিকে, আজ র‌্যাব-৮ এর প্রচেষ্টায় সুন্দরবনের জেলে ও বনজীবীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক আরও তিন বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করবে। বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করবে।

বনদস্যু বাহিনীগুলো হলো, ডন বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী ও সুমন বাহিনী।

জানা যায়, সুন্দরবনে গত ৩ বছরে ১৭টি বনদস্যু বাহিনীর ২২৭ সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করেছে। তবে এরপরও থামেনি জেলে-বনজীবীদের মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ। আত্মসমর্পণ করা বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত বাহিনীগুলোর দলছুট সদস্যরা নতুন নামে নতুন বাহিনী গঠন করে নেমে পড়ছে জেলে-বনজীবীদের অপহরণে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনসহ উপকুলীয় এলাকায় জেলে বহরে হানা দিয়ে মাছ লুট ও অপহরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শুধু মার্চ মাসে বনদস্যুদের হাতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের মুক্তিপণের দাবিতে একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এরইমধ্যে গত ২৮ মার্চ পূর্ব সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ছোট্ট বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা তিন জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ৬দিন পর ছাড়া পেয়েছেন। জেলেদের মহাজনরা বিকাশের মাধ্যমে ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ মার্চ রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ভাইজোড়া খালে স্মার্ট প্রেট্রোলিং টিমের সাথে অজ্ঞাত বনদস্যুদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আধ ঘন্টা গুলি বিনিময় শেষে ঘটনাস্থল থেকে বনদস্যুদের ব্যবহৃত ১টি নৌকা ও ২টি মোবাইল সিম উদ্ধার করে স্মার্ট টিমের সদস্যরা।

গত ৩ মার্চ বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের বনরক্ষী ও কোষ্টগার্ডের যৌথ অভিযানে সাত জেলে, তিনটি ফিশিং ট্রলার, একটি নৌকা উদ্ধার হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের গাতার খাল এলাকায় বনদস্যু মামা-ভাগ্নে বাহিনীর জিম্মি দশা থেকে ওই জেলেদের উদ্ধার করা হয়। একইদিন দুপুরে কটকা বনরক্ষী এবং ওই বনদস্যু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় বনরক্ষীরা বনদস্যুদের কবল থেকে ছয় জেলে ও চারটি মাছ ধরা নৌকা উদ্ধার করেন। এ নিয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৩ জেলে, তিনটি ফিশিং ট্রলার ও পাঁচটি মাছ ধরা নৌকা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, বনদস্যু বাহিনীর যে সদস্যরা আত্মসমর্পণ করছে না তারা নতুন করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সদস্য জোগাড় করে নেমে পড়ছে দস্যুতায়। তাদের দমন করা না গেলে সুন্দরবন উপকূল দস্যুতামুক্ত করা যাবে না। তবে আগের তুলনায় এখন অপহরণের ঘটনা অনেকটা কমে গেছে।

ad