৮ থেকে ৯ বিয়ে করার অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে!

Narsingdi ASI Closed
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করার অভিযোগ তুলেছেন তারই স্ত্রী। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ আছে। এসব ঘটনায় তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

গত বুধবার (১ আগস্ট) তাকে শিবপুর মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে নরসিংদী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত এএসআই সুমনের স্ত্রী আছমা বেগম জেলা পুলিশ সুপার ও পুলিশ পরিদর্শক ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রেমের সূত্র ধরে গত বছরের ৭ সেস্টেম্বর ৩ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেনমোহরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে এএসআই সুমনকে বিয়ে করেন তিনি।। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই সুমন তার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। কথায় কথায় ডিভোর্সের হুমকি দেয়।

আছমা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর জানা যায়, সুমন আছমাকে ছাড়াও শিবপুরের মিতু, মনোহরদীর মুক্তা, কাপাসিয়া থানার মহিলা পুলিশসহ এ পর্যন্ত ৭/৮ জন বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করেছেন। আর এক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতার জোরে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে ম্যানেজ করে ছাড়াছাড়ি করে। এ অবস্থায় গত বছরের ২২ অক্টোবর নরসিংদী পুলিশ সুপারের নিকট একটি অভিযোগ করেন তিনি। তবে রহস্যজনক কারণে সুমনের বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্মকর্তারা। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অভিযোগ করেন তিনি।

আসমা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি তার ভালোবাসার জন্য আমার জীবনের সবকিছু ছেড়ে তাকে বিয়ে করছি সুখে শান্তিতে সংসার করতে। আর সে আমাকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। সে আমাকে ছেড়ে গেলেও আমি তাকে ছাড়ব না।

এদিকে, অভিযুক্ত এএসআই সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার বাণিজ্য ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এএসআই সুমন রাস্তায় বিভিন্ন সময় পথচারীদেরকে তল্লাশি করে মাদক দিয়ে হয়রানীর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করে। আর অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে মাদক দিয়ে অথবা অন্য মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে হয়রানি করে আসছে সে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এএসআই সুমন মিয়া বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নাই। যা ইচ্ছা লেখেন।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এএসআই সুমনকে নরসিংদী পুলিশ নাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর স্ত্রীর অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ad