আতলাশপুরে জুয়েল বাহিনীর কাছে জিম্মি ৪০ হাজার মানুষ!

নারায়ণগঞ্জ ম্যাপ
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: আতঙ্ক আর ভয়ের জনপদে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার আতলাশপুর (হাটাবো)। আতঙ্কের এ জনপদে জুয়েল বাহিনীর প্রধান জুয়েল ও তার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার মানুষ।

কথিত আছে, এ বাহিনী এতোই বেপোরোয়া তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রভাবশালীরাও থাকে তটস্থ। হেন কোনো অপকর্ম নেই, যা এ বাহিনী করে না। সন্ধ্যা হলেই এ বাহিনীর ভয়ে মানুষ ঘরে ফিরে খিল আটকায়, এলাকায় নেমে আসে সুনশান নীরবতা।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, কাঞ্চন পৌরসভার আতলাশপুর (হাটাবো) এলাকার এমারত হোসেনের বখাটে ছেলে জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। তার গড়ে তোলা বাহিনীতে প্রায় ২৫ জনের অস্ত্রধারী রয়েছে।

এদের মধ্যে দিপ্তী, হিরা, ইফসুফ, রাজিব, বাবুল, রুমান তার অপরাধ জগতের সাম্রাজ্য দেখভাল করে। এ বাহিনী এলাকার সাধারণ মানুষের জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বাহিনী দিনে ছিনতাই, চাঁদাবাজি আর জমি জবর দখলে ব্যস্ত থাকে। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পর শুরু হয় তাদের অন্ধকার জগতের কারবারি। সন্ধ্যা হলেই জমে উঠে নেশা আর নারী নিয়ে ফূর্তি।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর গোটা এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় মানুষের চলাচল। সন্ধ্যা নামলেই এলাকায় নেমে আসে সুনশান নীরবতা। ভয়ে কেউ ঘরের বাহির হয় না।

ভয় ও আতঙ্কের মাঝে কয়েকজন এ প্রতিবেদকের কাছে মুখ খোলার সাহস করেন। তাদেরই একজন ফারুক হোসেন ওরফে পারু। তিনি বলেন, জুয়েল ও তার লোকজন চাঁদা না দেয়ায় গত ৪ মে আমার ছেলে রবিনকে হত্যার চেষ্টা করে। তার কাছ থেকে টাকা পয়সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। মরণের ভয় ছেড়ে দিয়া সাহস করে থানায় অভিযোগ করেছি।

আতলাশপুর এলাকার বালু ব্যবসায়ী মোবারক হোসেনের কাছে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তিনি বলেন, এ বাহিনীর ভয়ে মানুষ এলাকা ছাইড়া যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতাছে। আমার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা চাইছে। না দেয়ায় জুয়েল আর ওর লোকজন আমার বালুর গদিতে হামলা ও ভাঙচুর করে।

আরেক ভুক্তভোগী লাকি আক্তার যখন কথা বলছিলেন তখন তার দুচোখ গড়িয়ে পানি পড়ছিল। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাই ওগো বিরুদ্ধে মুখ খোলা আর জীবন দেয়া এক সমান। এ বাহিনী আমার জমি দহল করবার চেষ্টা করে। বাধা দেয়ায় বাড়িঘর ভাঙচুর করে। মহিলাগো হেনস্থা করে। লুটপাটও করে।

তিনি বলেন, ভয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে ওগো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। মামলাটি দেখার জন্য নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা ইয়াসমীনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

পারু, লাকি কিংবা মোবারকের মতো আরো অনেকে আছেন যারা ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না।

অভিযুক্ত জুয়েলের বক্তব্য নিতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। যেহেতু বিষয়টি জেনেছি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad