আমতলীতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় হামলা, আহত ২০

AMTALI
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনা জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিলনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় প্রকৌশলী ও কাউন্সিলরসহ ২০ জন আহত হয়েছে।

সোমবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, মিলন আমতলী পৌরসভায় ৫নং ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজের জমি দখল করে স্টল তৈরি করেছেন। এ ঘটনায় আমতলী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাকে নোটিশ দিলে সে নোটিশ ছিড়ে ফেলে। সোমবার দুপুরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চালায়।

এ সময় বিএনপি নেতা মশিউর রহমান, তার সহযোগি আরিফুর রহমানসহ ২০/২৫ জন পৌর কাউন্সিলর মোয়াজ্জেম হোসেন ফরহাদ, জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, মেনহাজ চৌকিদার, মনিরুল ইসলাম পাহলান, মহিলা কাউন্সিলর মর্জিনা, নাজমুন নাহারসহ কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। এতে নির্বাহী প্রকৌশলী তরুণ কুমার ভক্ত, সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, পৌর পুলিশ  মামুন, আরিফুর রহমান, পৌর কর্মচারী মিলি, সকিনা, মীর হাসান, সাব্বির, হিমেল, রুবেল ও পরিছন্নতা কর্মী কালী রানী আহত হয়।

পরে পৌর কর্মচারীদের পাল্টা হামলার মশিউর রহমান মিলন, তার স্ত্রী পলি রহমান, বোন মনিরা বেগম, শিশু কন্যা নাহি রহমান ও ভাগ্নি মাইদা আহত হয়। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সবুজবাগ এলাকার কয়েকজন বলেন, পৌরসভার লোকজন অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় তাদের উপর মশিউর রহমানের লোকজন হামলা করেছে।

কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম পাহলান, মহিলা কাউন্সিলর মর্জিনা, নাজমুন নাহার বলেন, পৌরসভার বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করছিল মশিউর রহমান মিলন। তার এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে তিনি উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী ও আমাদের উপর তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়েছেন।

এ ঘটনায় পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান পৌর কার্যালয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, পৌরসভার বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করায় তাকে পরপর দু’বার নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু তিনি নোটিশতো রাখেনি বরং পৌরসভার যারা নোটিশ নিয়ে গেছে তাদের অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছেন এবং নোটিশ ছিড়ে ফেলেছেন। আজ উচ্ছেদে গেলে তিনি সরকারি লোকজনকে মারধর করেন। সরকারি কাছে বাঁধা ও পৌর কর্মচারীদের মারধর করার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মশিউর রহমান মিলন পৌর কর্মচারীদের মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের লোকজন আমাকে, আমার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করেছে এবং আমার জমিতে নির্মাণাধীন ভবন ভেঙে ফেলেছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদ উল্যাহ বলেন , বিএনপি নেতা পৌরসভার বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করেছে। ওই ভবন উচ্ছেদের বিষয়টি আমি জানি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad