আমতলীতে ঘুষ না দেয়ায় পৌর কাউন্সিলরকে মারধরের অভিযোগ!

Amtoli
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঘুষ না দেয়ার বরগুনার আমতলী পৌরসভার কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৗসকে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌসকে সোমবার (৪ জুন) রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলরের নিজ বাড়িতে।

জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফেরদৌসের ১০ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে। গত ৪ জুন পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের একটি টিম বকেয়া বিল আদায়ের জন্য কাউন্সিলরের বাড়িতে আসে। ওই টিমের লাইনম্যান আলমগীর হোসেন কাউন্সিলরের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার কলির কাছে বকেয়া বিল পরে পরিশোধের কথা বলে ১০০০ টাকা ঘুষ দাবি করে।

এ টাকা দিতে অস্বীকার করেন কাউন্সিলরের স্ত্রী কলি। পরে ওইদিন দুপুর কাউন্সিলর বিল পরিশোধ করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় পল্লী বিদ্যুতের লোকজন এসে কাউন্সিলরের স্ত্রীর কাছে ঘুষের টাকা দাবি করলে সে বিল দেয়া হয়েছে বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান আলমগীর হোসেন ও আল মামুন কাউন্সিলরের বাসার লাইন বিচ্ছিন্ন করার জন্য চেষ্টা করে। এতে কাউন্সিলর বাঁধা দেয়। এ সময় লাইনম্যান আলমগীর হোসেন, আল মামুন, জুনিয়র প্রকৌশলী মরণ চন্দ্র দে, আমতলী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন তরফদার কাউন্সিলরকে মারধর করে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, আহত কাউন্সিলরের শরীরে ফুলা জখমের চিহৃ রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় বিল পরিশোধ করতে পারিনি। এ জন্য তারা আমার স্ত্রীর কাছে ১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ খবর পেয়ে আমি সমুদয় বকেয়া বিল পরিশোধ করেছি। ঘুষের টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন আমার বাসার বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। এতে আমি বাঁধা দিলে প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন ও তার লোকজন আমাকে মারধর ও আমার স্ত্রীর সাথে অশ্লীল আচরণ করে।

আমতলী উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন তরফদার মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, আলমগীর হোসেন নামের এক লাইনম্যানকে কাউন্সিলর মারধর করেছে। এ বিষয়টি মীমাংশা হয়ে গেছে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের জিএম মনোহর কুমার বিশ্বাস বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad