আমতলীতে পরকীয়া প্রেমে বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যা!

borguna
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে পরকীয়া প্রেমে বাঁধা দেয়ায় বনশ্রী রানী নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিহতের স্বামী ও তার প্রেমিকার বিরুদ্ধে।

শনিবার (৩০ জুন) রাতে উপজেলার গোছখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত বনশ্রীর বাবা সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রির অভিযোগ, জামাতা পলাশ তার পরিবারের লোকজন ও প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য গলায় কাপড় জড়িয়ে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঘটনার পর পলাশ ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

জানাগেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রির মেয়ে বনশ্রীর সাথে আমতলী উপজেলার গোছখালী গ্রামের অবিরাম হাওলাদারের ছেলে পলাশের বিয়ে হয় ২০১২ সালে। বিয়ের পর থেকে পলাশ স্ত্রী বনশ্রীকে নির্যাতন করে আসছে। গত এক বছর ধরে পলাশ কলাপাড়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হৃদয় সিকদারের কন্যা পুলিশের কনষ্টেবল পদে চাকরিরত প্রিয়াঙ্কা রানীর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে পলাশকে তার স্ত্রী বনশ্রী প্রতিহতের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রায়ই পলাশ বনশ্রীকে মারধর করতো। গত বুধবার স্ত্রী বনশ্রী জানতে পারে স্বামী পলাশ প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কাকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেছে। এরপর পলাশ প্রিয়াঙ্কাকে মেনে নেয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেয়। এতে রাজি হয়নি বনশ্রী। এ নিয়ে দু’পরিবারের মাঝে সোমবার শালিশ বৈঠকে বসার কথা ছিল।

শনিবার রাত ১১টায় বনশ্রী মোবাইল ফোনে বাবা সুশীলকে স্বামী পলাশের নির্যাতনের কথা জানায়।  এরপর রাতে তার গলায় ওড়না পেচানো ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কার মুঠোফোনে কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নিহতের স্বামী পলাশ হাওলাদারের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

আমতলী থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, হত্যা না আত্মহত্যা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরে আসল রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ad