আমতলীতে মায়ের চিকিৎসার টাকা জোগাতে পরীক্ষায় প্রক্সি!

borguna map
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে মায়ের চিকিৎসার টাকা জোগাতে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে আসে আরিফ হোসেন। তবে বন্ধুরা দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তাকে ধরিয়ে দেয় পুলিশের হাতে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) সকালে আমতলী বকুলনেছা মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রবেশ পথে এ ঘটনা ঘটে। আরিফ হোসেনের বাড়ী বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর গ্রামে। তার বাবার নাম বাবুল শরীফ।

জানাগেছে, বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান জয় ২০১৪ সালে আমতলী সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। ২০১৬ সালে ওই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে অকৃতকার্য হয়। পরপর দুই বছর অকৃতকার্য হয় মেহেদী।

২০১৮ সালের এইচএসসি প্রক্সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সরকারি কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফ হোসেনের সাথে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে মেহেদী। ইতিমধ্যে আরিফকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে মেহেদী।

এদিকে, মেহেদীর প্রক্সি পরীক্ষার খবর জেনে যায় তার দুই বন্ধু মুরাদ ও সোহেল। তারা দুইজনে মেহেদী হাসান জয়ের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে মেহেদী। এতে ক্ষিপ্ত হয় তারা আজ সকালে আরিফ হোসেন উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আমতলী বকুলনেছা পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বেই আরিফ হোসেনকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় মুরাদ ও সোহাগ। পুলিশ আরিফ হোসেনের প্রবেশপত্র যাচাই বাছাই করে সন্দেহ হলে তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রক্সি পরীক্ষা দিতে আসা আরিফ হোসেন জানান, মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। কোনো উপায় না পেয়ে মেহেদীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্তে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হই। এ ঘটনা জেনে মেহেদীর দুই বন্ধু মুরাদ ও সোহাগ তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। দুই বন্ধুর দাবিকৃত টাকা মেহেদী না দেয়ায় তারা আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে।

আমতলী বকুলনেছা মহিলা কলেজের কেন্দ্র সচিব মো. মজিবুর রহমান বলেন, পুলিশ সন্দেহ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করার পথে আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী থানার ওসি মো. সহিদ উল্যাহ বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করার পথে আরিফকে সন্দেহ হয়। পরে তার কাগজপত্র বাছাইকালে দৌড়ে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ad